- ৩০ মার্চ, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে একজন পেশাদার ফুটবলারের সরাসরি অংশগ্রহণের অভিযোগ ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইসরায়েলি ফুটবলার Menashe Zalka সেনাবাহিনীর পোশাকে দক্ষিণ লেবাননের একটি এলাকায় অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নিচ্ছেন।
ভিডিওটি প্রথম প্রচার করে ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল Channel 14। এতে দেখা যায়, তিনি একটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ভেতর থেকে মেশিনগান দিয়ে গুলি ছুঁড়ছেন এবং একটি গ্রেনেড নিক্ষেপ করছেন। ঘটনাটি মার্চের শেষ সপ্তাহে সংঘটিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৩৫ বছর বয়সী এই ফুটবলার ইসরায়েলি প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব Hapoel Hadera-এর অধিনায়ক হিসেবে খেলেন। পাশাপাশি তিনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্যারাট্রুপার ইউনিটে রিজার্ভ সদস্য হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
এই ঘটনায় ফুটবল অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ফিলিস্তিন ফুটবল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা এটিকে “অগ্রহণযোগ্য” উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা FIFA-এর কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে ফিফা ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (IFA) বৈষম্যবিরোধী নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা করলেও কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। ফলে নতুন এই ঘটনার পর আবারও প্রশ্ন উঠেছে—বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি কি এ বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান নেবে?
বিশ্লেষকদের মতে, কোনো সক্রিয় খেলোয়াড়ের যুদ্ধক্ষেত্রে অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক ক্রীড়ানীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এর ফলে খেলাধুলার নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। অন্যদিকে সামাজিক মাধ্যমে অনেক ভক্ত ও সমালোচক এই ঘটনাকে মানবাধিকার ইস্যুর সঙ্গে যুক্ত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা ক্রীড়া ও রাজনীতির জটিল সম্পর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। এখন নজর রয়েছে ফিফা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।