- ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে একটি তথাকথিত “ইয়েলো লাইন” স্থাপন করেছে, যা গাজার মতোই একটি সামরিক বিভাজন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কাজ করবে। এই ঘোষণা এমন সময় এলো, যখন লেবাননের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে মাত্র কয়েক দিন আগে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, গত চব্বিশ ঘণ্টায় দক্ষিণ লেবাননে ওই সীমারেখার দক্ষিণ অংশে অবস্থানরত সেনারা এমন কিছু ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে, যারা যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করে তাদের দিকে অগ্রসর হয়েছিল। সেনাবাহিনীর ভাষ্যমতে, এতে “তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ঝুঁকি” তৈরি হয়।
এটি প্রথমবারের মতো ইসরায়েল লেবাননের ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে “ইয়েলো লাইন” শব্দটি ব্যবহার করল। এর আগে গাজা উপত্যকায় এই ধরনের সীমারেখা ব্যবহার করে অঞ্চল ভাগ করে নিয়ন্ত্রণ চালিয়ে আসছে তারা।
গাজার ক্ষেত্রে এই সীমারেখা পূর্ব ও পশ্চিম অংশে বিভক্ত করা হয়েছে, যেখানে পূর্বাঞ্চল ইসরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে এবং পশ্চিম অংশে তুলনামূলকভাবে চলাচলে কিছুটা ছাড় রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই এলাকায় প্রবেশ করলেই গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে।
এই বিষয়ে পশ্চিম তীর থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক নূর ওদেহ বলেন, লেবাননে এই নতুন পদক্ষেপকে অনেকেই “গাজার মতো পরিস্থিতি তৈরি করার ধারাবাহিকতা” হিসেবে দেখছেন। তার মতে, সীমান্তবর্তী লেবানিজ গ্রামগুলো ধ্বংস করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো গাজার ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকার মতো অবস্থায় পরিণত হতে পারে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় শহরগুলোতে গোলাবর্ষণ এবং ঘরবাড়ি ধ্বংসের ঘটনাও ঘটছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলছে, তাদের অবস্থান রক্ষার জন্যই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে লেবাননের রাজনৈতিক ও সামরিক সংগঠন হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাসেম বলেছেন, যুদ্ধবিরতি তখনই টিকে থাকবে যখন দুই পক্ষই তা মেনে চলবে। তিনি ইসরায়েলের সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং সতর্ক করে বলেন, সংঘাত চলতে থাকলে তারও প্রতিক্রিয়া আসবে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে বন্দি বিনিময়, সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের প্রত্যাবর্তন এবং পুনর্গঠন কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই “ইয়েলো লাইন” ঘোষণার ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং অঞ্চলটিতে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।