Monday, January 19, 2026

চ্যাটজিপিটি মোবাইল অ্যাপে গ্রাহক ব্যয়ে ছাড়াল ৩ বিলিয়ন ডলার


প্রতীকী ছবিঃ চ্যাটজিপিটির (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি মোবাইল প্ল্যাটফর্মে গ্রাহক ব্যয়ের ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড গড়েছে। অ্যাপ বিশ্লেষণ সংস্থা অ্যাপফিগারসের হিসাব অনুযায়ী, আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েড মিলিয়ে চ্যাটজিপিটির মোবাইল অ্যাপে মোট গ্রাহক ব্যয় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে।

২০২৩ সালের মে মাসে প্রথমবার আইওএসে চালু হওয়ার পর থেকে এই ব্যয় জমা হয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—এই আয়ের বড় অংশই এসেছে চলতি বছর ২০২৫ সালে।

বিশ্বজুড়ে চলতি বছরে চ্যাটজিপিটির মোবাইল অ্যাপে গ্রাহকের ব্যয় দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ২ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪০৮ শতাংশ বেশি। ২০২৪ সালে এই ব্যয় ছিল প্রায় ৪৮৭ মিলিয়ন ডলার। এরও আগে, ২০২৩ সালে প্রথম বছরে চ্যাটজিপিটির আয় ছিল মাত্র ৪২ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার, যা পরের বছর লাফিয়ে বেড়ে যায়।

অ্যাপফিগারসের তথ্যমতে, ভোক্তা ব্যয়ের দিক থেকে এত দ্রুত ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানো অ্যাপ খুব কমই আছে। চ্যাটজিপিটির ক্ষেত্রে সময় লেগেছে প্রায় ৩১ মাস। তুলনায় সবচেয়ে বেশি আয় করা অ্যাপ টিকটকের একই মাইলফলকে পৌঁছাতে সময় লেগেছিল ৫৮ মাস। ডিজনি প্লাস ও এইচবিও ম্যাক্সের মতো জনপ্রিয় স্ট্রিমিং অ্যাপগুলোর ক্ষেত্রেও সময় লেগেছে যথাক্রমে ৪২ ও ৪৬ মাস।

এআই অ্যাপগুলোর মধ্যে চ্যাটজিপিটির আয়ের গতিপথের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে এক্সএআইয়ের গ্রোক। ২০২৩ সালের শেষ দিকে এক্স প্রিমিয়াম প্লাস গ্রাহকদের জন্য চালু হওয়া গ্রোক পরে সবার জন্য উন্মুক্ত হয়। আয় শুরু করার পর থেকে গ্রোকের গ্রাহক ব্যয়ের গতি অন্য অনেক এআই অ্যাপের তুলনায় চ্যাটজিপিটির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মিল দেখিয়েছে।

চ্যাটজিপিটির এই বিপুল ব্যয় মূলত এসেছে পেইড সাবস্ক্রিপশন থেকে। মোবাইল ব্যবহারকারীরা মাসিক ২০ ডলারের চ্যাটজিপিটি প্লাস কিংবা উন্নত ফিচারসমৃদ্ধ ২০০ ডলারের চ্যাটজিপিটি প্রো প্যাকেজ কিনছেন। তবে ভবিষ্যতে আয়ের উৎস আরও বৈচিত্র্যময় হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সম্প্রতি চ্যাটজিপিটি নিজস্ব অ্যাপ স্টোরের মতো একটি প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে, যেখান থেকে ভবিষ্যতে আয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিজ্ঞাপন সংযোজনও সম্ভাব্য রাজস্ব মডেল হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে।

এদিকে গুগল তাদের সার্চ ব্যবসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত করে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের নতুন পথ খুঁজছে। অন্যদিকে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক মূলত করপোরেট বাজারে নজর দিচ্ছে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে তাদের আয় ৭০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চ্যাটজিপিটির এই দ্রুত উত্থান প্রমাণ করে যে ভোক্তা পর্যায়ে এআই প্রযুক্তির গ্রহণযোগ্যতা এখন আর পরীক্ষামূলক পর্যায়ে নেই, বরং এটি মূলধারার প্রযুক্তিতে পরিণত হচ্ছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন