- ১২ জুন, ২০২৬
স্পোর্টস ডেস্ক | PNN নিউজ
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর দ্বিতীয় দিনে মাঠে নেমেছিল দুই স্বাগতিক দেশ কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র। দিনের শেষে এক দল পেল স্বপ্নের সূচনা, অন্য দলকে সন্তুষ্ট থাকতে হলো নাটকীয় এক ড্র নিয়ে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেই শক্তির বার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গ্রুপ ‘ডি’-এর ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত সূচনা করেছে স্বাগতিকরা।
শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল মার্কিনদের হাতে। আক্রমণাত্মক ফুটবল, দ্রুত পাসিং এবং মধ্যমাঠের আধিপত্যে প্যারাগুয়েকে কার্যত কোণঠাসা করে ফেলে তারা। দলের হয়ে জোড়া গোল করেন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুন। এছাড়া ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ, জিও রেইনা ও অন্যান্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা বারবার প্যারাগুয়ের রক্ষণে ভীতি ছড়ান।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে প্রায় ৭০ হাজার দর্শকের সামনে যুক্তরাষ্ট্রের এই জয় দেশটির ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। কোচ মাউরিসিও পোচেত্তিনোর দলকে অনেক বিশ্লেষকই টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য চমক হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘বি’-এর ম্যাচে কানাডা ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা ১-১ গোলে ড্র করেছে। তবে ম্যাচের অধিকাংশ সময় পিছিয়ে থাকায় এই এক পয়েন্টকে স্বস্তির হিসেবেই দেখবে স্বাগতিকরা।
ম্যাচের ২১ মিনিটে জোভো লুকিচের গোলে এগিয়ে যায় বসনিয়া। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে সমতায় ফেরার জন্য লড়াই চালায় কানাডা। একের পর এক আক্রমণ করেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা। অবশেষে ৭৮তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেই গোল করে কানাডাকে ম্যাচে ফেরান সাইল ল্যারিন। তার সেই গোলেই নিশ্চিত হয় ১-১ সমতা।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের মাটিতে কানাডার প্রথম গোল হিসেবেও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ল্যারিনের এই গোল। শেষদিকে উভয় দলই জয়ের জন্য চেষ্টা চালালেও আর কোনো গোল না হওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে গ্রুপ ‘ডি’-তে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে গ্রুপ ‘বি’-তে কানাডা ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা এক পয়েন্ট করে অর্জন করেছে। ফলে আজ কাতার ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচের দিকে বিশেষ নজর থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের।
বিশ্বকাপের শুরুতেই স্বাগতিক দেশগুলোর পারফরম্যান্স টুর্নামেন্টে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র যেখানে শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে, সেখানে কানাডা দেখিয়েছে লড়াই করে ফিরে আসার মানসিকতা। গ্রুপ পর্ব যত এগোবে, এই দুই দলের পথচলা বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে।