Saturday, April 25, 2026

বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকট চরমে, গাজা ও সুদানে দুর্ভিক্ষ নিশ্চিত


ছবিঃ বুধবার, ১৮ ​​ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে গাজা উপত্যকার খান ইউনিসের একটি কমিউনিটি রান্নাঘরে মুসলিমদের পবিত্র মাস রমজানের প্রথম দিনে ইফতারের জন্য দান করা খাবার নিতে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের হিমশিম খেতে হচ্ছে (সংগৃহীত । আল জাজিরা । জেহাদ আলশরাফি/এপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকট আরও গভীর আকার ধারণ করেছে। ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো একই বছরে দুটি অঞ্চলে গাজা উপত্যকা ও সুদান দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছে ২০২৬ সালের খাদ্য সংকট বিষয়ক বৈশ্বিক প্রতিবেদন

মানবিক ও উন্নয়ন খাতের ১৮টি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তা এখনো ব্যাপকভাবে বিদ্যমান। ২০২৫ সালে ৪৭টি দেশ ও অঞ্চলে প্রায় ২৬৬ মিলিয়ন মানুষ চরম খাদ্যসংকটে ভুগেছে, যা বৈশ্বিকভাবে উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালে যেখানে এই সংখ্যা ছিল ১০৮ মিলিয়ন, সেখানে তা কয়েক বছরের ব্যবধানে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। ২০২০ সালের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে বিশ্লেষণ করা জনসংখ্যার ২০ শতাংশের বেশি মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে রয়েছে।

দুর্ভিক্ষ নির্ধারণের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো এলাকায় কমপক্ষে ২০ শতাংশ পরিবার চরম খাদ্যসংকটে থাকলে, ৩০ শতাংশের বেশি মানুষ অপুষ্টিতে ভুগলে এবং প্রতিদিন প্রতি ১০ হাজারে অন্তত দুজনের মৃত্যু ঘটলে সেই পরিস্থিতিকে দুর্ভিক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গাজা উপত্যকা, যেখানে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার মানুষ দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছে—এটি মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। সুদানেও প্রায় সমসংখ্যক মানুষ চরম খাদ্যসংকটে রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ সুদান, ইয়েমেন, হাইতি এবং মালি-এর কিছু জনগোষ্ঠী ‘বিপর্যয়কর’ খাদ্যসংকটে রয়েছে।

প্রতিবেদনটি উল্লেখ করেছে, সংঘাত ও সহিংসতা খাদ্যসংকটের প্রধান কারণ হিসেবে রয়ে গেছে। ১৯টি দেশে প্রায় ১৪৭ মিলিয়ন মানুষ সরাসরি সংঘাতজনিত কারণে খাদ্যসংকটে ভুগছে। এছাড়া জলবায়ুজনিত দুর্যোগ ১৬টি দেশে এবং অর্থনৈতিক ধাক্কা ১২টি দেশে খাদ্যসংকটের বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এদিকে, ২০২৫ সালে খাদ্যসংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ২০২৬ সালেও একাধিক অঞ্চলে সংকট তীব্র থাকার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে প্রতিবেদনটি।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো শিশুদের ওপর এর প্রভাব। প্রায় ৩৫ মিলিয়ন শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে, যার মধ্যে প্রায় ১ কোটি শিশু গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে। পাশাপাশি গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের মধ্যেও অপুষ্টির হার বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কাঠামোগত সমস্যার সমাধান ছাড়া বৈশ্বিক খাদ্যসংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। অন্যথায় বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে এই সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন