Monday, January 12, 2026

বিপ্লবের বদলে ধাপে ধাপে অগ্রগতি: ২০২৫ সালে এআই উন্নয়নের বাস্তব চিত্র


ছবিঃ (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

২০২৫ সালের শুরুতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিল্পে অর্থের যেন কোনো সীমা ছিল না। শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানি ও নতুন স্টার্টআপগুলো শত শত কোটি ডলারের বিনিয়োগ পাচ্ছিল, আর বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। তবে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এসে সেই অতিরিক্ত আশাবাদের মাঝে ধীরে ধীরে ঢুকে পড়ে এক ধরনের “বাস্তবতা যাচাই”।

বছরের শুরুতেই ওপেনএআই ৩০০ বিলিয়ন ডলারের মূল্যায়নে ৪০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ তোলে। একই সময়ে কোনো পণ্য বাজারে না এনেই সেফ সুপারইন্টেলিজেন্স ও থিংকিং মেশিন ল্যাবসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এককভাবে ২ বিলিয়ন ডলারের সিড রাউন্ড সম্পন্ন করে। এমনকি প্রথমবারের উদ্যোক্তারাও এমন অঙ্কের বিনিয়োগ পাচ্ছিলেন, যা একসময় কেবল বড় প্রযুক্তি জায়ান্টদের ক্ষেত্রেই দেখা যেত।

এই বিপুল বিনিয়োগের সঙ্গে সঙ্গে ব্যয়ও বেড়েছে নাটকীয়ভাবে। মেটা প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে এআই অবকাঠামো ও প্রতিভা দখলে। একই সঙ্গে বড় এআই কোম্পানিগুলো ভবিষ্যতে প্রায় ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার অবকাঠামো বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এই বিনিয়োগ কি টেকসই, নাকি একটি সম্ভাব্য এআই বুদবুদের ইঙ্গিত?

২০২৫ সালের মাঝামাঝি থেকে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন দেখা যায়। এআইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ থাকলেও, ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা, ব্যবসায়িক মডেলের কার্যকারিতা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির গতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। নতুন মডেল আসলেও আগের মতো “বিপ্লবী” প্রভাব আর দেখা যায়নি; উন্নয়ন হয়েছে ধাপে ধাপে, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রভিত্তিক।

অন্যদিকে, অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল অর্থ ঢালার ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ, জমি ব্যবহার এবং স্থানীয় জনসাধারণের আপত্তির মতো সমস্যাও সামনে এসেছে। কিছু বড় প্রকল্পে অর্থায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, যা বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে সংশ্লিষ্টদের।

একই সঙ্গে আস্থার প্রশ্নও বড় হয়ে উঠেছে। কপিরাইট মামলা, এআই চ্যাটবটের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব এবং নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। এমনকি এআই ল্যাবগুলোর ভেতর থেকেও সতর্কবার্তা আসছে অতিরিক্ত দ্রুত সম্প্রসারণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সাল ছিল এআই খাতের “প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার” বছর। আর ২০২৬ সাল হতে যাচ্ছে সেই কঠিন প্রশ্নগুলোর জবাব দেওয়ার সময়। অতিরিক্ত বিনিয়োগ ও উচ্চ মূল্যায়নের যুগ হয়তো শেষের পথে, সামনে অপেক্ষা করছে বাস্তব ফলাফল প্রমাণের চ্যালেঞ্জ।

সুত্রঃ টেকক্রাঞ্চ

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন