- ১০ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে আরও বড় বিনিয়োগের পথে হাঁটলেন মেটা প্ল্যাটফর্মসের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটা এবার অধিগ্রহণ করতে যাচ্ছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক এআই স্টার্টআপ ম্যানাস (Manus), যা অল্প সময়ের মধ্যেই সিলিকন ভ্যালিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে একটি ঝকঝকে ডেমো ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে ম্যানাস। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, এআই এজেন্টটি চাকরিপ্রার্থী বাছাই, ভ্রমণ পরিকল্পনা এবং শেয়ারবাজার বিশ্লেষণের মতো জটিল কাজ করতে সক্ষম। তখন প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছিল, তাদের প্রযুক্তি ওপেনএআইয়ের ‘ডিপ রিসার্চ’-এর চেয়েও কার্যকর।
প্রতিষ্ঠা হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই, এপ্রিল মাসে, মার্কিন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান বেঞ্চমার্কের নেতৃত্বে ৭৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পায় ম্যানাস। ওই বিনিয়োগ রাউন্ডে কোম্পানিটির মূল্যায়ন দাঁড়ায় প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার। এর আগে টেনসেন্ট, ঝেনফান্ড ও এইচএসজি (সাবেক সিকোয়িয়া চায়না)–এর মতো বিনিয়োগকারীরাও এতে অর্থ ঢেলেছিল বলে জানা যায়।
শুরুর দিকে মাসিক ৩৯ থেকে ১৯৯ ডলার পর্যন্ত সাবস্ক্রিপশন ফি নির্ধারণ করায় সমালোচনার মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ম্যানাস জানিয়েছে, তাদের ব্যবহারকারী সংখ্যা মিলিয়নে পৌঁছেছে এবং বার্ষিক পুনরাবৃত্ত আয় (ARR) ১০০ মিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে।
এই সাফল্যের পরই ম্যানাসের সঙ্গে অধিগ্রহণ আলোচনা শুরু করে মেটা। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারে এই চুক্তি হতে যাচ্ছে, যা ম্যানাসের পরবর্তী বিনিয়োগ রাউন্ডে প্রত্যাশিত মূল্যায়নের সমান।
মেটার জন্য এই অধিগ্রহণ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ, বিপুল অঙ্কের অবকাঠামো ব্যয়ের পরও মেটার এআই বিনিয়োগ থেকে সরাসরি আয় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ম্যানাস এমন একটি এআই পণ্য, যা ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হয়ে উঠেছে।
মেটা জানিয়েছে, অধিগ্রহণের পরও ম্যানাস স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে তাদের এআই এজেন্ট প্রযুক্তি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত করা হবে, যেখানে মেটার নিজস্ব চ্যাটবট ‘মেটা এআই’ ইতোমধ্যে সক্রিয়।
তবে এই চুক্তি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। ম্যানাসের প্রতিষ্ঠাতারা চীনা নাগরিক এবং তারা ২০২২ সালে বেইজিংয়ে ‘বাটারফ্লাই ইফেক্ট’ নামে মূল প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পরে চলতি বছর তারা কার্যক্রম সিঙ্গাপুরে সরিয়ে নেয়। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে মার্কিন সিনেটর জন কর্নিন ম্যানাসে বিনিয়োগের জন্য বেঞ্চমার্ককে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। চীন-প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় তিনি বরাবরই কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে চীনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ এখন দ্বিদলীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে মেটা স্পষ্ট জানিয়েছে, অধিগ্রহণের পর ম্যানাসের সঙ্গে কোনো চীনা বিনিয়োগকারীর সম্পৃক্ততা থাকবে না এবং প্রতিষ্ঠানটি চীনে তাদের সব কার্যক্রম বন্ধ করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অধিগ্রহণ মেটার এআই কৌশলে নতুন গতি আনবে এবং বৈশ্বিক এআই প্রতিযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটিকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।