- ০৯ এপ্রিল, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ আরও বেশ কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। একজন আসামিকে খালাসও দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান, তাজহাট থানার সাবেক ওসি রবিউল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিভূতি ভূষণ রায়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ১০ বছর, ৫ বছর ও ৩ বছর মেয়াদে একাধিক আসামিকে সাজা দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, পুলিশ কর্মকর্তাসহ শিক্ষক ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
রায়ের পর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, মামলায় গুলির প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের দাবি, নিহতের পোশাক বা মরদেহে গুলির স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং এ সংক্রান্ত যথাযথ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা হয়নি। তারা পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যালোচনা করে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলার একপর্যায়ে আবু সাঈদ গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
বিচার প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ এবং বিভিন্ন আলামত উপস্থাপন করা হয়। প্রসিকিউশন পক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে, অন্যদিকে আসামিপক্ষ তাদের নির্দোষ দাবি করে খালাস চেয়েছিল।
উল্লেখ্য, এ মামলায় মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়, যার মধ্যে কয়েকজন গ্রেপ্তার থাকলেও অধিকাংশই পলাতক রয়েছেন। দীর্ঘ শুনানি ও যুক্তিতর্ক শেষে অবশেষে এই বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।