- ০৫ মার্চ, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক ও ক্রীড়াঙ্গনের টানাপোড়েনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ক্রিকেট খাতেও। ভারতের শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেট সামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এসজির সঙ্গে বাংলাদেশের কয়েকজন শীর্ষ ক্রিকেটারের স্পনসরশিপ চুক্তি নবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন দাস ও সাবেক টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হকসহ কয়েকজন ক্রিকেটারের সঙ্গে এসজির চুক্তির মেয়াদ শেষের পথে থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে নবায়ন প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদনটি উদ্ধৃত করে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান রাজনৈতিক ও ক্রিকেটীয় উত্তেজনার কারণে স্পনসরশিপ নবায়নের বিষয়টি আপাতত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সম্পর্কের উন্নতি হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে পারে বলেও এইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ভারতের আরেকটি বড় ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সারিন স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রিজও বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে গত বছর কয়েকজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছিল বলে জানা গেছে।
শুধু খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত স্পনসরশিপ নয়, সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের ক্রিকেট শিল্পও আর্থিক চাপে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র জানায়, গত ছয় মাস ধরে এসজি বাংলাদেশে তাদের ক্রিকেট সামগ্রী সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। ফলে স্থানীয় বাজারে তাদের পণ্যের উপস্থিতি নেই বললেই চলে।
এক সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন কারখানায় বিপুল পরিমাণ ক্রীড়া পোশাক উৎপাদন হতো, যা ভারতীয় ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সরবরাহ করা হতো। তবে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে সেই উৎপাদন ও সরবরাহ কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের এই টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে আইপিএল–২০২৬ ঘিরে। বিসিসিআইয়ের অনুরোধে কলকাতা নাইট রাইডার্স নিলামে কেনা বাংলাদেশি বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে চুক্তি থেকে মুক্ত করার বিষয়টি দুই দেশের ক্রিকেট মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।
এই ঘটনার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের ভেন্যুতে নির্ধারিত বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করে। বিসিবি এ বিষয়ে দুই দফা চিঠি পাঠালেও এখনো আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।
বর্তমানে ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ‘সি’ গ্রুপে রয়েছে। গ্রুপ পর্বে তাদের ম্যাচগুলো ভারতের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অস্থিরতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে এর প্রভাব বাংলাদেশের ক্রিকেট ও ক্রীড়া শিল্পে আরও গভীরভাবে পড়তে পারে।