- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
বিশ্বের দ্রুততম মানব উসাইন বোল্টের অর্থ জালিয়াতির ঘটনায় প্রায় তিন বছর পর উল্লেখযোগ্য আইনি অগ্রগতি এসেছে। জ্যামাইকার ধসে পড়া বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ‘স্টকস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড’-এর তিন সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেছে দেশটির আদালত।
অভিযোগে বলা হয়েছে, কিংবদন্তি এই স্প্রিন্টারের বিনিয়োগকৃত প্রায় ১০ মিলিয়ন পাউন্ড অর্থ (বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১৬৫ কোটি টাকা) প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়। ২০২৩ সালে প্রথম এই কেলেঙ্কারির তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
তদন্তে উঠে আসে, উসাইন বোল্টের অ্যাকাউন্টে যেখানে প্রায় ১০ মিলিয়ন পাউন্ড থাকার কথা ছিল, সেখানে অবশিষ্ট পাওয়া যায় মাত্র ৯ হাজার ৭০০ পাউন্ড। শুধু বোল্ট নন, একই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিনিয়োগ করা আরও প্রায় ২০০ গ্রাহক একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
নতুন করে অভিযুক্ত তিনজন হলেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা হিউ ক্রুস্কেরি, সারাহ মেনি ও জ্যাকারি হার্ডিং। তাদের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ, বৈধ ডিলার লাইসেন্স ছাড়া সিকিউরিটিজ ব্যবসা পরিচালনা, কোম্পানি আইন লঙ্ঘন এবং ব্যাংকিং বিধি ভাঙার একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালত ক্রুস্কেরি ও মেনিকে বিপুল অঙ্কের বন্ডে জামিন দিলেও মামলার কার্যক্রম কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। অপর অভিযুক্ত হার্ডিংকেও জামিন দেওয়া হয়েছে, তবে তার শর্ত প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে এই মামলায় কেবল একজন সম্পদ উপদেষ্টার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল।
উসাইন বোল্টের আইনজীবী শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন, এত বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ কোনো একক ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয় এবং এর পেছনে একটি সংগঠিত চক্র জড়িত। তিন সাবেক নীতিনির্ধারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে সেই দাবিরই বাস্তব প্রতিফলন ঘটল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই মামলার পরবর্তী শুনানি ও বিচার প্রক্রিয়ার দিকে এখন বিশ্ব ক্রীড়া ও অর্থনৈতিক মহলের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে।