- ২২ আগস্ট, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
দেশে ব্যক্তি পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারে গ্রাম ও শহরের মধ্যে এখনো বড় ধরনের বৈষম্য বিদ্যমান। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার অনেক কম।
জরিপ অনুযায়ী, শহরে প্রায় ৭৫.৭ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, যেখানে গ্রামে এ হার মাত্র ৪৩.৬ শতাংশ। অর্থাৎ দুই এলাকার মধ্যে ব্যবহারের পার্থক্য দাঁড়িয়েছে ৩২.১ শতাংশ পয়েন্ট, যা ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিবিএস কার্যালয়ে ‘আইসিটি ব্যবহারের সুযোগ ও প্রয়োগ পরিমাপ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশে মোট জনগোষ্ঠীর ৫৩.৪ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। মোবাইল ফোন ব্যবহারের হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি প্রায় ৮৮.৪ শতাংশ মানুষের কাছে মোবাইল ফোন রয়েছে। তবে নিজস্ব মোবাইল ফোন রয়েছে মাত্র ৬৪.৪ শতাংশের।
কম্পিউটার ব্যবহারের হার এখনো সীমিত, যা মাত্র ১১.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ডিজিটাল দক্ষতা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।
ইন্টারনেট সেবার উচ্চ খরচকে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ৪৩.৬ শতাংশ উত্তরদাতা। তাদের মতে, ব্যয়বহুল ডেটা ও সেবা দেশের বড় একটি জনগোষ্ঠীকে অনলাইনে যুক্ত হতে নিরুৎসাহিত করছে।
জরিপে জেলা ভিত্তিক পার্থক্যও উঠে এসেছে। রাজধানী ঢাকায় ইন্টারনেট ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি, আর সবচেয়ে কম দেখা গেছে পঞ্চগড়ে। কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ঢাকাই শীর্ষে, বিপরীতে ঠাকুরগাঁওয়ে হার সবচেয়ে কম।
ব্যবহারকারীদের আচরণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত তিন মাসে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৬৪.৪ শতাংশ চাকরির তথ্য অনুসন্ধান করেছেন। খেলাধুলা সংক্রান্ত তথ্য খুঁজেছেন প্রায় অর্ধেক (৪৯.৮ শতাংশ) ব্যবহারকারী। অনলাইনে কেনাকাটার হার তুলনামূলকভাবে কম, যা ১১.৬ শতাংশ।
সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতার ক্ষেত্রেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৭৮.৫ শতাংশ জানিয়েছেন, সাইবার আক্রমণের পরিস্থিতিতে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারেন। তবে ৫০.৫ শতাংশ ব্যবহারকারী এখনো ভাইরাস ও ম্যালওয়্যারকে বড় ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করেন।
বিবিএসের এই জরিপে উঠে এসেছে, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়লেও এর সমান প্রবেশাধিকার, সাশ্রয়ী সেবা এবং দক্ষতা উন্নয়ন এখনো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।