Thursday, April 2, 2026

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় সার সংকটের শঙ্কা, দুশ্চিন্তায় দক্ষিণ এশিয়ার কৃষকরা


ছবিঃ একজন কৃষক তার ফসলের দিকে যত্নশীল নজর রেখে মাঠজুড়ে সার ছড়াচ্ছেন, মার্চ ২০২৬-এ ভারতীয় প্রশাসিত কাশ্মীরে বর্ধনকাল শুরু হওয়ার সময় (সংগৃহীত । আল জাজিরা । সজাদ হামিদ/আল জাজিরা)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে দক্ষিণ এশিয়ার কৃষিখাতে। যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের সাম্প্রতিক উত্তেজনা ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সার সরবরাহ ও দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও নেপালের কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

ভারতের পাঞ্জাবের গুরদাসপুর জেলার কৃষক রমেশ কুমার চলতি মৌসুমে নিজের ফসল নিয়ে হিসাব কষতে গিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। সার, বীজ ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভের হিসাব অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ফলন কম হলে সংসারের খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যাবে—এমনকি সন্তানের পড়াশোনা বা মেয়ের বিয়েও পিছিয়ে দিতে হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়, যা সার উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পথে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে সার উৎপাদন ও সরবরাহে প্রভাব পড়ে, যার সরাসরি প্রতিফলন দেখা যায় কৃষি উৎপাদনে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে কৃষি খাত এখনও বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবিকার প্রধান উৎস। বাংলাদেশে কৃষি দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে বিপুল সংখ্যক কৃষক আমদানিনির্ভর সারের ওপর নির্ভরশীল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা বা সরবরাহ সংকট দ্রুতই স্থানীয় বাজারে প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও কৃষকদের মধ্যে একই ধরনের উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, কখনো সার পাওয়া যাচ্ছে, কখনো পাওয়া যাচ্ছে না—আর পাওয়া গেলেও দাম বেশি। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত খাদ্যদ্রব্যের বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।

পাকিস্তান ও নেপালেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, সময়মতো সার না পেলে ফসলের ফলন কমে যাবে। অনেকেই ইতোমধ্যে সার ব্যবহার কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সরকারগুলো পরিস্থিতি মোকাবিলায় নানা পদক্ষেপের কথা জানালেও মাঠপর্যায়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। বিকল্প উৎস থেকে সার আমদানির চেষ্টা, স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং কৃষকদের জন্য ভর্তুকি বাড়ানোর বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হয়, তাহলে এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে। সার সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকিও তৈরি হবে।

সব মিলিয়ে, দূরের ভূরাজনৈতিক সংঘাত এখন দক্ষিণ এশিয়ার কৃষকদের জীবনে বাস্তব সংকট হয়ে দেখা দিচ্ছে। তাদের জন্য এটি শুধু একটি আন্তর্জাতিক ঘটনা নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনযাত্রা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি কঠিন বাস্তবতা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন