Thursday, January 22, 2026

কিশোরদের মানসিক ক্ষতি নিয়ে অভিযোগ: আদালতের মুখোমুখি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যালগরিদম


প্রতীকী ছবিঃ স্ন্যাপচ্যাট (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি ও মানসিক ক্ষতির অভিযোগে করা একটি মামলায় বিচার শুরুর ঠিক আগে সমঝোতায় পৌঁছেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ন্যাপচ্যাটের মূল প্রতিষ্ঠান স্ন্যাপ। যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির সুপিরিয়র কোর্টে এই সমঝোতার ঘোষণা দেওয়া হয়। মামলাটি করেছিলেন ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ, যিনি আদালতের নথিতে ‘কেজিএম’ নামে পরিচিত। অভিযোগে বলা হয়, স্ন্যাপচ্যাটের নকশা ও অ্যালগরিদম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করে এবং এর ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

এই মামলায় স্ন্যাপ ছাড়াও মেটা, ইউটিউব ও টিকটকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, স্ন্যাপের বিরুদ্ধে একই ধরনের আরও একাধিক মামলা চলমান রয়েছে এবং সেসব মামলায় প্রতিষ্ঠানটি এখনো আসামি হিসেবে রয়েছে।

আদালতে উপস্থাপিত নথি অনুযায়ী, অন্তত নয় বছর আগে থেকেই স্ন্যাপের ভেতরে কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন কিছু কর্মী। তবে স্ন্যাপ কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই উদাহরণগুলো বাছাই করে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সেগুলো বাস্তব প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন।

মামলার বাদীপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে নব্বইয়ের দশকের ‘বিগ টোব্যাকো’ মামলার সঙ্গে তুলনা টানছে। তাদের অভিযোগ, তামাক কোম্পানির মতোই এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের সম্ভাব্য ক্ষতির তথ্য আড়াল করেছে। অনন্ত স্ক্রল, স্বয়ংক্রিয় ভিডিও চালু থাকা এবং অ্যালগরিদমভিত্তিক কনটেন্ট সাজেশনের মতো ফিচার ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় অ্যাপে আটকে রাখে, যার ফলে হতাশা, খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যা ও আত্মক্ষতির প্রবণতা বাড়তে পারে।

এই মামলায় স্ন্যাপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইভান স্পিগেলের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা ছিল। সেটি হলে এটিই হতো প্রথম কোনো সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে আসক্তি সংক্রান্ত মামলায় জুরি ট্রায়াল। এখন পর্যন্ত এমন কোনো মামলায় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম পরাজিত হয়নি।

অন্যদিকে মেটা, টিকটক ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে থাকা মামলাটি এখনো এগোচ্ছে। আগামী সোমবার, ২৭ জানুয়ারি থেকে জুরি নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গের সাক্ষ্য দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি বাদীপক্ষ এসব মামলায় জয়ী হয়, তাহলে তা কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণে গড়াতে পারে এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে তাদের পণ্য ও নকশা পরিবর্তনে বাধ্য করতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর যুক্তি, অ্যালগরিদম, নোটিফিকেশন বা কনটেন্ট বাছাইয়ের বিষয়টি সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তের মতোই এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর আওতায় সুরক্ষিত মতপ্রকাশ হিসেবে বিবেচ্য।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন