- ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
রাজধানীর মিরপুরের কালশীতে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় এক পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে সড়কে ফেলে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। আহত ওই পুলিশ সদস্য বর্তমানে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে কালশী সড়কে একটি সুপারশপের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্যের নাম মো. সাইমন। তিনি পল্লবী থানায় কর্মরত।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আহত পুলিশ সদস্যকে চিকিৎসার জন্য রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থলের কাছের একটি বাসার বারান্দা থেকে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করেন এক নারী। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ধাওয়া দিলে কয়েকজন সদস্য আন্দোলনকারীদের ভিড়ের মধ্যে পড়ে যান।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা চারদিক থেকে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ সদস্যরা আশপাশে সরে গেলেও একজন সদস্যকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করেন বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ।
ওই নারী আরও দাবি করেন, পুলিশ সদস্যকে মাটিতে ফেলে মারধরের একপর্যায়ে তাঁর কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে উদ্ধার করে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের দিকে পাঠিয়ে দেন।
ঘটনাস্থলের পাশের সুপারশপের এক কর্মীও পুলিশ সদস্যকে মারধরের বিষয়টি দেখেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, কয়েকজন ব্যক্তি হঠাৎ ওই পুলিশ সদস্যকে মাটিতে ফেলে মারধর শুরু করেন। পরে দোকানের শাটার বন্ধ করে কর্মীরা দোতলায় চলে যান। এরপর কী ঘটেছে, তা আর তাঁদের দেখা হয়নি।
এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পিওএম দক্ষিণ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার তৌহিদুল আরিফ সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ সদস্যকে মারধরের বিষয়ে তাঁরা তখনো বিস্তারিত জানেন না। খোঁজ নিয়ে পরে এ বিষয়ে জানাতে পারবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় সোয়া ১১টা পর্যন্ত চলে এ সংঘর্ষ। এতে ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কালশী এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত ছিল। সড়কের উভয় পাশে যান চলাচলও স্বাভাবিক হয়ে আসে।