- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
টুর্নামেন্টের আগে অল্প সময়ের জন্য কোচ নিয়োগ, স্বল্পমেয়াদি ক্যাম্প আর অনিয়মিত লিগ—বাংলাদেশ হকিতে এই চিত্র নতুন নয়। সদ্য সমাপ্ত জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে ২৪ দলের মধ্যে ১৭তম হয়ে চ্যালেঞ্জার ট্রফি জিতে সম্ভাবনার আলো জ্বালিয়েছেন আমিরুল ইসলাম, রাকিবুল হাসানদের মতো তরুণরা। বিশ্বমঞ্চে প্রথম অংশগ্রহণেই নজর কাড়লেও, এই দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে স্পষ্টতা নেই।
হকি ফেডারেশন জানিয়েছে, জুনিয়র দলটিকে ধরে রাখার ইচ্ছা আছে। নিয়মিত ক্যাম্প চালুর পাশাপাশি অন্তত প্রথম বিভাগ লিগ শুরুর কথা ভাবছেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) রিয়াজুল হাসান। তিনি বলেন, খুব শিগগিরই ক্লাবগুলোকে চিঠি পাঠানো হবে, যাতে প্রথম বিভাগ লিগ মাঠে ফেরানো যায়।
তবে বাস্তবতা বলছে, হকিতে অনিয়মিত লিগই যেন নিয়ম। ১৯৯৮ থেকে ২০২৪-২৬ বছরে প্রিমিয়ার হকি লিগ হয়েছে মাত্র ১৩ বার। সর্বশেষ ২০২৩ সালের লিগ মারামারির ঘটনায় শেষ করা যায়নি; পরে সভা ডেকে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগের অবস্থাও ভালো নয়। প্রথম বিভাগ লিগ ২৬ বছরে হয়েছে ১২ বার, আর ২০১২ সালের পর দ্বিতীয় বিভাগ লিগ হয়েছে মাত্র পাঁচবার।
ফেডারেশনের পরিকল্পনায় আছে ভিন্নধর্মী ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা। দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্পের বদলে ১০ দিন করে ক্যাম্প চালু রেখে বিরতি দেওয়া হবে। প্রতিবারই খেলোয়াড়দের ফিটনেস পরীক্ষা নেওয়ার কথা। উদ্দেশ্য খেলোয়াড়দের খেলার মধ্যে রাখা এবং নিজেদের মধ্যে অনুশীলন ও ম্যাচের সুযোগ তৈরি করা।
তবে ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আয়োজন এখনই সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে ফেডারেশন। আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরে সাধারণ সম্পাদক বলেন, অনূর্ধ্ব-১৯ দল বিশ্বকাপে খেললেও সরকার থেকে কোনো অর্থ সহায়তা মেলেনি। পৃষ্ঠপোষকের অনুদান ও ফেডারেশনের সঞ্চয় ভেঙে খরচ জোগাড় করতে হয়েছে।
এদিকে খেলোয়াড়েরা স্পষ্ট করে বলছেন নিয়মিত লিগ ছাড়া উন্নতি সম্ভব নয়। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক মেহরাব হাসানের মতে, খেলার মধ্যে না থাকলে অল্প সময়েই দল ও খেলোয়াড়দের সবাই ভুলে যাবে। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা আমিরুল ইসলামও মনে করেন, নিয়মিত লিগ চালু থাকলেই উন্নতির পথ খুলে যাবে।
আরেক দুশ্চিন্তার নাম কোচ সংকট। জুনিয়র দলের কোচ ডাচ নাগরিক সিগফ্রিড আইকম্যানের চুক্তি শেষ; তিনি বিদায় নিচ্ছেন। যাওয়ার আগে তাঁর পরামর্শ বয়সভিত্তিক দলে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, নিয়মিত লিগ ও শক্তিশালী দলের সঙ্গে ম্যাচ আয়োজন করতে হবে, না হলে অগ্রগতি থেমে যাবে। বর্তমানে সিনিয়র জাতীয় দলেও নেই কোনো স্থায়ী কোচ।
বারবার কোচ বদলানোও হকিতে পুরোনো সমস্যা। স্বল্পমেয়াদি টুর্নামেন্টের জন্য কোচ এনে কাজ শেষ এই চক্রে কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গড়ে উঠছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রশ্ন এখন একটাই জুনিয়রদের সাফল্যের পর কি অবশেষে মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে নিয়মিত লিগ আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আলো ফিরবে, নাকি সম্ভাবনাময় এই প্রজন্মও হারিয়ে যাবে অনিশ্চয়তার ভিড়ে?