Saturday, March 28, 2026

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলা


ছবিঃ ইরান–যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংঘাতের মধ্যে তেহরানে একটি আঘাতপ্রাপ্ত আবাসিক ভবনের সামনে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির পাশে মানুষ সমবেত হয়েছেন। (সংগৃহীত । আল জাজিরা । মাজিদ আসগারিপুর/ওয়ানা)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN

মধ্য ইরানের ইয়াজদ শহরে একটি ইউরেনিয়াম প্রক্রিয়াজাতকরণ স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের মধ্যে এই হামলাকে বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা এমন একটি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, যেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল প্রস্তুত করা হয়। তাদের ভাষায়, এটি ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে ইরান পারমাণবিক শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, হামলায় কোনো প্রাণহানি বা তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি তৈরি হয়নি।

একই দিনে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছাকাছিও একটি প্রক্ষেপণ আঘাত হানে, যদিও এতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির কথা অস্বীকার করেছে ইরান।

সংঘাতের ২৮তম দিনে দেশটির বিভিন্ন স্থানে একযোগে হামলা চালানো হয়। খন্দাব হেভি ওয়াটার কমপ্লেক্সসহ ইস্পাত খাতের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা খুজেস্তান স্টিল কারখানা ও ইসফাহানের মোবারাকেহ স্টিল কমপ্লেক্সেও আঘাত হানা হয়েছে। রাজধানী তেহরান, কাশান ও আহওয়াজ এলাকাতেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। কুম শহরে পৃথক হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই হামলার জন্য ইসরায়েলকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল বেসামরিক অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জ্বালানি খাতকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, তাদের সামরিক অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং লক্ষ্যবস্তুর পরিধি বাড়ানো হবে।

এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক শীর্ষ কমান্ডার সাইয়েদ মাজিদ মুসাভি সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং ভবিষ্যতে প্রতিক্রিয়া আরও কঠোর হতে পারে।

যুদ্ধের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তান উভয় পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছে, পাশাপাশি তুরস্ক ও মিসর মধ্যস্থতায় সহায়তা করছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরান সেখানে জাহাজ চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জি৭ দেশগুলো, যারা নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে।

জাতিসংঘও পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্যোগ নিয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহন সচল রাখতে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন