- ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
ভবিষ্যতের পরিবহন প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে নতুন করে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, যেখানে সবচেয়ে বড় লড়াই এখন দক্ষ জনবলকে ঘিরে। স্বচালিত যানবাহন ও রোবোটিকস খাতে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে তৈরি হয়েছে এক ধরনের ‘ট্যালেন্ট ওয়ার’।
খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে এআই ও রোবোটিকস–ভিত্তিক কাজের জন্য দক্ষ প্রকৌশলীদের বেতন দ্রুত বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে শুধু মূল বেতনই বছরে ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ ডলারের মধ্যে পৌঁছেছে, যা কয়েক বছর আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
বিশেষ করে Waymo-এর মতো স্বচালিত প্রযুক্তি কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতা এখন আরও তীব্র হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে ‘ফিজিক্যাল এআই’ খাতের উত্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ফিজিক্যাল এআই বলতে এমন প্রযুক্তিকে বোঝানো হচ্ছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সরাসরি হার্ডওয়্যারের সঙ্গে যুক্ত করা হয় যেমন মানবাকৃতির রোবট, শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতি, স্বয়ংক্রিয় যানবাহন বা কৃষি ও খনিশিল্পের যন্ত্র। এই খাতে কাজ করতে পারে এমন দক্ষতা এখন সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন।
এ ধরনের বিশেষজ্ঞদের বড় অংশ আগে স্বচালিত গাড়ি ও রোবোট্যাক্সি প্রকল্পে কাজ করতেন। কিন্তু বর্তমানে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি খাতসহ অন্যান্য শিল্পে বেশি বেতন ও সুযোগ-সুবিধার কারণে তারা নতুন দিকে ঝুঁকছেন। ফলে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও স্টার্টআপগুলোকে তাদের ধরে রাখতে বেতন বাড়াতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিরক্ষা খাতের স্টার্টআপগুলো সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় প্যাকেজ দিচ্ছে, কারণ সরকারি ব্যয়ের কারণে তাদের অর্থায়ন শক্তিশালী। ফলে এআই গবেষক ও প্রকৌশলীদের জন্য এই খাত এখন সবচেয়ে লোভনীয় হয়ে উঠেছে।
এদিকে বিনিয়োগকারীরাও নতুন ট্রেন্ডে ঝুঁকছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক Eclipse সম্প্রতি ফিজিক্যাল এআই খাতে বিনিয়োগের জন্য প্রায় ১.৩ বিলিয়ন ডলারের নতুন তহবিল গঠন করেছে। এর একটি অংশ প্রাথমিক পর্যায়ের স্টার্টআপ এবং অন্য অংশ প্রবৃদ্ধি পর্যায়ের কোম্পানির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
শিল্পসংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এই প্রতিযোগিতার ফলে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষ প্রকৌশলী ধরে রাখতে হিমশিম খাবে। অন্যদিকে স্টার্টআপগুলোর জন্য বাড়তি বিনিয়োগ সংগ্রহ করা জরুরি হয়ে উঠবে।
সব মিলিয়ে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও পরিবহন প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে এই দক্ষ মানবসম্পদের ওপর যাদের ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা।