- ১১ এপ্রিল, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এক নারী অভিযোগ করেছেন, তার সাবেক প্রেমিক দীর্ঘদিন ধরে একটি চ্যাটবট ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ধারণায় আক্রান্ত হয়ে তাকে হয়রানি করেছেন। এ ঘটনায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সিলিকন ভ্যালির এক উদ্যোক্তা কয়েক মাস ধরে চ্যাটবটের সঙ্গে কথোপকথনের পর বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে তিনি নাকি স্লিপ অ্যাপনিয়ার চিকিৎসা আবিষ্কার করেছেন। একই সঙ্গে তিনি মনে করতে থাকেন, প্রভাবশালী কিছু শক্তি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই ব্যক্তি তার সাবেক প্রেমিকাকে লক্ষ্য করে নানা ধরনের মানসিক হয়রানি চালান। চ্যাটবটের সহায়তায় তৈরি করা তথাকথিত ‘মনস্তাত্ত্বিক রিপোর্ট’ তিনি ভুক্তভোগীর পরিবার, বন্ধু ও কর্মস্থলে ছড়িয়ে দেন। এতে ওই নারীর ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ভুক্তভোগী, যিনি নিরাপত্তার কারণে নিজের পরিচয় গোপন রেখে মামলা করেছেন, দাবি করেন—প্রতিষ্ঠানটির কাছে একাধিকবার সতর্কবার্তা পাঠানো হলেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পরও তা পুনরায় চালু করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
আইনজীবীরা জানান, ওই ব্যক্তি পরবর্তীতে আরও আক্রমণাত্মক আচরণ শুরু করেন এবং এক পর্যায়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বোমা হামলার হুমকি ও অস্ত্র ব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন।
মামলায় বলা হয়েছে, প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে আদালতের কাছে অভিযুক্ত ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য সংরক্ষণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা, ব্যবহারকারীর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব এবং প্রযুক্তি কোম্পানির দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত বিকাশমান এআই প্রযুক্তির সঙ্গে সঙ্গে এর ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর নীতিমালা ও নজরদারি জরুরি।