- ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর আর্জেন্টিনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ও বিতর্ক। তবে এসব আলোচনাকে গুরুত্ব দিতে রাজি নন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ক্রিস্তিয়ান ‘কুতি’ রোমেরো। তাঁর মতে, ফাইনালে সন্দেহজনক কিছু ঘটেনি; বরং স্পেন নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েই শিরোপা জিতেছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আর্জেন্টিনার ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের এক প্রতিবেদনে রোমেরোর এমন বক্তব্য উঠে আসে।
ফাইনাল নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন প্রসঙ্গে রোমেরো বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো ভিত্তিহীন মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাঁর ভাষ্য, ফাইনালে অস্বাভাবিক কিছু ঘটেনি। স্পেন নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে, আর আর্জেন্টিনা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ম্যাচে টিকে থাকার চেষ্টা করেছে।
পুরো বিশ্বকাপজুড়েই শারীরিকভাবে কঠিন সময় পার করতে হয়েছে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের। রোমেরোর মতে, দলের কয়েকজন ফুটবলার চোটের কারণে স্বাভাবিক পারফরম্যান্স ধরে রাখতে হিমশিম খেয়েছেন। নিজেও সেই সমস্যায় ভুগেছেন বলে জানান তিনি।
টুর্নামেন্টে দলের একাধিক খেলোয়াড়ের চোটের বিষয়টি তুলে ধরে রোমেরো জানান, লিয়ান্দ্রো পারেদেস পাঁজরের চোট নিয়ে খেলেছেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পর টেন্ডনের সমস্যায় নিজে অনুশীলন করতে পারেননি তিনি। লিচা, মলি ও নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর ফিটনেস নিয়েও উদ্বেগ ছিল। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজও ভাঙা আঙুল নিয়ে খেলেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এত প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের খেলোয়াড়েরা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েছেন বলে মনে করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা কিংবা নেতিবাচক মন্তব্য তাঁর কাছে বড় বিষয় নয় বলেও জানান তিনি।
রোমেরোর কথায়, নিজের কাছে সৎ থাকা এবং ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দলের জন্য সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করাই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কনটেন্ট তৈরির জন্য খেলোয়াড়দের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করা ব্যক্তিদের সমালোচনাও করেন তিনি। গত ছয়-সাত বছর ধরে জাতীয় দলের সঙ্গে থেকে খেলোয়াড়দের আন্তরিক প্রচেষ্টা প্রত্যক্ষ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন এই ডিফেন্ডার।
বিশ্বকাপের আগে হাঁটুর চোট নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছিলেন রোমেরো। সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে কোচ লিওনেল স্কালোনির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। রোমেরোর মতে, চোটের কারণে তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ থাকলেও স্কালোনি তাঁর ওপর আস্থা রেখেছিলেন।
হাঁটুতে চোট পাওয়ার পর বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় কেঁদে ফেলেছিলেন বলেও জানান তিনি। তবে দুই দিন পর স্ক্যান করানোর পর চোটের প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা পান। তাঁর আশা ছিল, পরিস্থিতি বিবেচনায় শেষ ষোলো কিংবা কোয়ার্টার ফাইনালের সময়ের মধ্যে ফিট হয়ে উঠতে পারবেন।
আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির প্রতি নিজের শ্রদ্ধার কথাও তুলে ধরেন রোমেরো। জাতীয় দলে একসঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতি স্মরণ করে জানান, মেসির বিদায়ের পর তাঁদের আর কথা হয়নি। বিষয়টি এখনো তাঁর কাছে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়।
ব্যালন ডি’অর ও সুপার ব্যালন ডি’অর নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পুরস্কার নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রোমেরো। তাঁর মতে, বর্তমানে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বিপণন ও জনপ্রিয়তাও পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে কি না, তা নিয়ে রসিকতা করেন তিনি।
রোমেরোর মতে, চ্যাম্পিয়নস লিগ কিংবা বিশ্বকাপ জিতলেই কোনো খেলোয়াড় ব্যক্তিগত পুরস্কারের সবচেয়ে যোগ্য হয়ে ওঠেন এমন ধারণা ঠিক নয়। মেসির খেলার ধরন, মাঠে তাঁর প্রভাব এবং দীর্ঘদিনের অর্জন অন্যদের চেয়ে আলাদা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মেসিকে বাদ দিয়ে কাকে এই পুরস্কার দেওয়া উচিত এমন প্রশ্নের জবাবে রোমেরো স্পষ্টভাবে বলেন, তাঁর পছন্দ মেসিই। অন্য কাউকে বেছে নেওয়ার পরিস্থিতি এলেও তিনি মেসিকেই এগিয়ে রাখবেন বলে জানান।