- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) দুর্নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিসিবির পরিচালক ও সিসিডিএমের প্রেসিডেন্ট আদনান রহমান দীপনের এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ক্রিকেট অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ডের সময়ে হওয়া দুর্নীতি সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের দীর্ঘ সময়ের দুর্নীতিকেও ছাড়িয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে বিসিবির সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন নাজমুল হাসান পাপন। এরপর ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার ফারুক আহমেদ বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার প্রায় নয় মাসের দায়িত্বকালে বিসিবিতে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের বিপিএলে দুর্নীতি ও ম্যাচ ফিক্সিংয়ের ঘটনা নিয়ে তখন ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল।
চলতি বছরের মে মাসে বিসিবির সভাপতির দায়িত্ব নেন সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল। দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পার হলেও বোর্ড এখনো নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ সময় বোর্ডের ভেতরে মতবিরোধ, প্রথম বিভাগের ক্লাবগুলোর আন্দোলন এবং উইকেটের মাটি চুরির মতো অস্বস্তিকর ঘটনাও সামনে এসেছে।
সম্প্রতি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আদনান রহমান দীপনের মন্তব্য সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল তা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, “এটা তার ব্যক্তিগত মতামত। আমি এই বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করছি।”
দীপনের বক্তব্যে চলমান তদন্ত ও চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে আসার ইঙ্গিত প্রসঙ্গে বুলবুল বলেন, বিসিবিতে এ ধরনের কোনো বিশেষ অডিট বা তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে না। তবে গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেটে যেসব জায়গায় উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে, সেসব ক্ষেত্র চিহ্নিত করে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
বিসিবি সভাপতি আরও বলেন, বোর্ড এখন একটি রূপান্তরকাল অতিক্রম করছে। দীর্ঘদিনের একটি ব্যবস্থার মধ্যে অনেক অনিয়ম জমে ছিল, যার প্রভাব এখন দৃশ্যমান হচ্ছে। তবে দীপনের অভিযোগকে তিনি পুরোপুরি ব্যক্তিগত মত বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে আসন্ন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়ে নিজের লক্ষ্যও তুলে ধরেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তিনি জানান, বিসিবি সভাপতি হিসেবে বিপিএল তার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। এবারের বিপিএলে তিনি দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে চান—একটি হলো সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন এবং অন্যটি আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য জাতীয় দলকে আরও শক্ত ভিত্তি দেওয়া।