- ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
২০২৫ আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (আফকন)–এর সেমিফাইনালে আজ সেনেগালের বিপক্ষে মাঠে নামছে মিসর। ম্যাচটি ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন মিসরের অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ। জাতীয় দলের হয়ে বহুল প্রত্যাশিত একটি শিরোপা জয়ের চাপ যেমন তাঁর কাঁধে, তেমনি ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের তাগিদও প্রবল।
আফ্রিকার ইতিহাসে সর্বোচ্চ সাতবার শিরোপা জেতা মিসরের শেষ সাফল্য এসেছিল ২০১০ সালে। তার এক বছর পরই জাতীয় দলে অভিষেক হয় সালাহর। এরপর ২০১৭ ও ২০২১ সালের ফাইনালে উঠেও শিরোপা ছোঁয়া হয়নি তাঁর। ২০১৯ সালে ঘরের মাঠে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয় দলকে, আর ২০২৩ আসরে চোটের কারণে আগেভাগেই ছিটকে পড়ে মিসর।
কোয়ার্টার ফাইনালে আইভরি কোস্টকে হারানোর পর সালাহ বলেন, “এই ট্রফি জিততে আমার চেয়ে বেশি কেউ চায় না। আমি প্রায় সবকিছুই জিতেছি, শুধু এটিই এখনো অধরা।”
সেমিফাইনালে সালাহর সামনে আরেক বড় চ্যালেঞ্জ—সেনেগাল অধিনায়ক সাদিও মানে। সাবেক লিভারপুল সতীর্থ মানের বিপক্ষে আগের কয়েকটি আন্তর্জাতিক লড়াইয়ে সালাহর স্মৃতি সুখকর নয়। বিশেষ করে ২০২১ আফকন ফাইনাল ও ২০২২ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে-অফে টাইব্রেকারে মানের কাছে হার মানতে হয়েছিল মিসরকে।
দুই তারকার বয়সই এখন ৩৩। ২০২৮ সাল থেকে আফকন চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত হবে—এ কারণে অনেকের মতে, এটি হতে পারে সালাহর শেষ বড় সুযোগ আফ্রিকার শ্রেষ্ঠত্ব ছিনিয়ে নেওয়ার।
চলতি আসরে সালাহ দুর্দান্ত ছন্দে আছেন। চার ম্যাচে চার গোল করে তিনি মিসরের আক্রমণের প্রধান ভরসা। আফকনে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১-তে, যা মিসরের ইতিহাসে অন্যতম সেরা রেকর্ড। ওমর মারমুশ, ত্রেজেগে ও মোস্তফা মোহাম্মদের মতো ফরোয়ার্ডরাও তাঁকে সহায়তা করছেন।
অন্যদিকে সেনেগালের শক্তিও কম নয়। মানে শুধু গোলই নয়, আক্রমণ তৈরিতেও বড় ভূমিকা রাখছেন। তাঁর নেতৃত্বে দলটি ভারসাম্যপূর্ণ ও আত্মবিশ্বাসী। অভিজ্ঞ এদুয়ার্দ মেন্দি, কালিদু কুলিবালি ও ইদ্রিসা গেইয়ের মতো খেলোয়াড়রা দলকে শক্ত ভিত দিচ্ছেন।
সব মিলিয়ে টাঙ্গিয়ারের গ্র্যান্ড স্টেডিয়ামে আজকের সেমিফাইনাল শুধু দুটি দলের লড়াই নয়, বরং আফ্রিকার দুই সেরা ফুটবল তারকার মর্যাদা ও অতৃপ্ত স্বপ্নের মুখোমুখি সংঘর্ষ। সালাহ কি এবার অতীতের হতাশা ভুলে ফাইনালের টিকিট কাটতে পারবেন, নাকি মানে আবারও স্বপ্নভঙ্গের কারণ হবেন—সেই অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।