- ১০ জানুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে চীনের ভূমিকা। ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ভেনেজুয়েলার তেলবাহী জাহাজ জব্দ, মাদক পাচারের অভিযোগে নৌযানে হামলা এবং উপকূলে কার্যত অবরোধ কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছে বেইজিং। চীনের মতে, এসব কার্যক্রম একতরফা শক্তি প্রদর্শনের উদাহরণ, যা একটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন এবং জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থী।
গত ১৭ ডিসেম্বর ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই যুক্তরাষ্ট্রের ‘একতরফা দমননীতি’র বিরোধিতা করেন। একই সঙ্গে তিনি ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষার অধিকারের প্রতি সমর্থন জানান।
তবে কূটনৈতিক ভাষার বাইরে ভেনেজুয়েলার পাশে বাস্তব কোনো সহায়তা দেয়নি চীন। বিশ্লেষকদের মতে, লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি প্রভাবের কারণে বেইজিং এ সংকটে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এতে অঞ্চলটিতে চীনের প্রভাব ও সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
গত দুই দশকে লাতিন আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে চীন। বর্তমানে দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার দেশটি, আর মেক্সিকোর ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বৃহত্তম। কৃষিপণ্য ও খনিজ সম্পদের জোগান চীনের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক গাড়ি ও টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তির বাজার হিসেবেও অঞ্চলটি চীনের জন্য লাভজনক।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিকভাবে লাতিন আমেরিকাকে নিজের প্রভাববলয় হিসেবে দেখে আসছে। ফলে চীনের বাড়তে থাকা উপস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটন উদ্বিগ্ন। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা, শুল্ক আরোপ এবং রাজনৈতিক চাপের ফলে কয়েকটি দেশ চীনের সঙ্গে সম্পর্ক সীমিত করার পথে হাঁটছে।
চীন ভেনেজুয়েলার বড় তেল ক্রেতা হলেও দেশটির ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ চীনের জ্বালানি কৌশলের জন্য একটি ঝুঁকির বার্তা দেয়। তবুও বিশ্লেষকদের ধারণা, ভেনেজুয়েলায় সরাসরি সামরিক বা অর্থনৈতিকভাবে জড়ানোর মতো অবস্থানে নেই বেইজিং।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে লাতিন আমেরিকায় প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত থাকলেও এশিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার কথাও বলা হয়েছে। এতে চীন দ্বিধায় পড়েছে ওয়াশিংটন কি সত্যিই অগ্রাধিকার বদলাচ্ছে, নাকি এটি কৌশলগত ফাঁদ?
এই প্রেক্ষাপটে চীন আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপাক্ষিকতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে ভেনেজুয়েলাকে রক্ষায় বড় কোনো পদক্ষেপ নেবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বরং যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী ভূমিকা চীনের প্রভাবের সীমা প্রকাশ করতে পারে, যা লাতিন আমেরিকার দেশগুলোকেও নতুন করে হিসাব কষতে বাধ্য করবে।