- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই রিমান্ড বন্দিকে অনশনরত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পরিবার ও স্বজনদের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন খাবার না নেওয়ায় যেকোনো সময় তাঁদের প্রাণহানি ঘটতে পারে।
লন্ডনের পেন্টনভিল কারাগারে আটক ২৮ বছর বয়সী কামরান আহমেদকে শনিবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে জানিয়েছেন তাঁর বোন শাহমিনা আলম। অন্যদিকে সারে কাউন্টির এইচএমপি ব্রনজফিল্ড কারাগারে আটক ৩০ বছর বয়সী আমু গিবকে শুক্রবার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তাঁর বন্ধু ও বন্দিদের পক্ষে কাজ করা সংগঠন প্রিজনার্স ফর প্যালেস্টাইন। আমু গিব নিজেদের জন্য ‘তারা’ সর্বনাম ব্যবহার করেন।
কামরান আহমেদ ও আমু গিব ছয়জন বন্দির মধ্যে দুজন, যারা যুক্তরাজ্যের পাঁচটি ভিন্ন কারাগারে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্রিস্টলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসের যুক্তরাজ্য শাখা এবং অক্সফোর্ডশায়ারের একটি রয়্যাল এয়ার ফোর্স ঘাঁটিতে ভাঙচুর ও অনুপ্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তাঁরা সবাই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, কামরান আহমেদের অনশন এখন ৪২তম দিনে। এ অবস্থায় তাঁর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মারাত্মক ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে। গত কয়েক দিনে তাঁর ওজন দ্রুত কমছে প্রতিদিন প্রায় আধা কেজি করে। সর্বশেষ তাঁর ওজন নেমে এসেছে ৬০ কেজিতে। কারাগারে যাওয়ার সময় তাঁর ওজন ছিল ৭৪ কেজি।
শাহমিনা আলম জানান, শুক্রবার পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় তাঁর ভাইয়ের কথা জড়ানো ছিল এবং তিনি বুকে ব্যথা ও শরীরে উচ্চমাত্রার কিটোন সমস্যায় ভুগছিলেন। এটি অনশনে যোগ দেওয়ার পর কামরান আহমেদের তৃতীয়বার হাসপাতালে নেওয়ার ঘটনা।
অনশনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে তাৎক্ষণিক জামিন, ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করা, প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং কারাগারে কথিত সেন্সরশিপ বন্ধ করা। সংগঠনটি অভিযোগ করছে, গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডে যুক্তরাজ্য সরকার পরোক্ষভাবে জড়িত।
অনশনরত আরেক বন্দি ২০ বছর বয়সী কেসার জুহরা প্রায় ৫০ দিন খাবার না খেয়ে শরীরের ১৩ শতাংশ ওজন হারিয়েছেন এবং তিনিও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্য বন্দিরা হলেন হেবা মুরাইসি, তেউতা হোক্সা ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত লুই চিয়ারামেলো, যিনি এক দিন পরপর অনশন করছেন।
আমু গিবের বন্ধু নিদা জাফরি জানান, কারাগারে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসকের কাছে যেতে গিবকে হুইলচেয়ার চাইলেও শুরুতে তা দেওয়া হয়নি। এতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা বিলম্বিত হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর বন্দিরা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, অনশনরত বন্দিদের অবস্থা এখন ‘সংকটাপন্ন’। তাঁরা যুক্তরাজ্যের বিচারমন্ত্রী ডেভিড ল্যামির হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি ১৯৮১ সালের আইরিশ বন্দিদের অনশনের পর যুক্তরাজ্যের কারাগারে সবচেয়ে বড় সমন্বিত অনশন কর্মসূচি। তবে সে সময়ের তুলনায় এবার ব্রিটিশ গণমাধ্যমে বিষয়টি খুব কম গুরুত্ব পাচ্ছে যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।