- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে আবারও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গুলিবর্ষণ, ড্রোন হামলা এবং বিমান ও আর্টিলারি আক্রমণে নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। অক্টোবর থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির প্রায় প্রতিদিনের লঙ্ঘনের ধারাবাহিকতায় এসব হামলা চলছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার বরাতে চিকিৎসা সূত্র জানায়, রোববার দক্ষিণ গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন থেকে গুলি চালানো হলে কয়েকজন বেসামরিক মানুষ আহত হন। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এক কিশোরীসহ দুইজন আহত হয়েছেন।
যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী যেসব এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর সরে যাওয়ার কথা ছিল, সেখান থেকেও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পূর্ব গাজা সিটির আল-আহলি আরব হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকরা জানান, নেটজারিম এলাকার কাছে ইসরায়েলি গুলিতে তিনজন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি ইসরায়েলি ড্রোন ওই এলাকায় অবস্থানরত একটি দলকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
এ ছাড়া নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আল-মাওয়াসিতে আরও দুইজন ইসরায়েলি হামলায় আহত হয়েছেন। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তিকে মাথায় গুলি করা হলে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের চিকিৎসকরা।
স্থল হামলার পাশাপাশি দক্ষিণের রাফাহ এলাকায় একাধিক ভবনে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে উত্তরের জাবালিয়া এলাকার পূর্বাংশ এবং গাজা সিটির তুফাহ মহল্লায় আর্টিলারি গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। কেন্দ্রীয় গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের আশপাশে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানো হয় বলেও জানা গেছে। খান ইউনিস উপকূলের দিকেও ইসরায়েলি নৌবাহিনী থেকে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে গাজায় প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন একটি প্রস্তাব সামনে এসেছে। হামাস জানিয়েছে, ১৫ সদস্যের একটি টেকনোক্র্যাট কমিটি গঠনের উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানিয়েছে, যা একটি তথাকথিত ‘শান্তি বোর্ড’-এর তত্ত্বাবধানে কাজ করবে। তবে এই কমিটির কার্যক্রম, অর্থায়ন এবং ইসরায়েলি বাধা থাকবে কি না এসব প্রশ্ন এখনো স্পষ্ট নয়।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল অন্তত ৪৬০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে এবং ১,২০০ জনের বেশি মানুষকে আহত করেছে। একই সঙ্গে খাদ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আশ্রয় সামগ্রী প্রবেশেও কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
বর্তমানে প্রায় ২২ লাখ মানুষ তীব্র মানবিক সংকটে রয়েছে। শীতের মধ্যে অস্থায়ী তাঁবুতে কোনো রকমে জীবনযাপন করছে গাজার বেশিরভাগ মানুষ। জাতিসংঘের হিসাবে, ইসরায়েলি হামলায় গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং পুনর্গঠনে প্রয়োজন হবে অন্তত ৫০ বিলিয়ন ডলার।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখ ৭১ হাজারেরও বেশি আহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও সহিংসতা অব্যাহত থাকায় গাজাবাসীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তা আরও গভীর হচ্ছে।