- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
গাজা শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর পৃথক হামলায় অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছে ১০ বছর বয়সী এক শিশু কন্যা, ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর এবং এক প্রবীণ নারী। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার এক দিনের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল; যে সময় যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছিল, গাজায় সহিংসতা বন্ধে প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর হওয়ার পথে।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার বরাতে জানা যায়, উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ১৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ রায়েদ আল-বারাউই মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। একই এলাকায় একটি ড্রোন হামলায় ১০ বছর বয়সী এক শিশু কন্যা নিহত হয়। এর আগে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে প্রাণ হারান ৬২ বছর বয়সী সাবাহ আহমেদ আলি আবু জামেয়া।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এ সময় দুটি পরিবারের বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। অপরদিকে, ইসরায়েল দাবি করেছে যে তারা হামাসের সামরিক শাখা কাসসাম ব্রিগেডের এক কমান্ডার মুহাম্মদ আল-হাউলিকে হত্যা করেছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ প্রসঙ্গে হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, গাজায় চলমান হামলাগুলোকে “যুদ্ধবিরতির নতুন লঙ্ঘন” হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, শান্তি প্রক্রিয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে সহিংসতা বন্ধের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।
এদিকে কায়রোতে হামাসের সহায়তায় গঠিত একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক কমিটি তাদের প্রথম বৈঠক করেছে। এই কমিটি গাজার দৈনন্দিন বেসামরিক প্রশাসন পরিচালনার দায়িত্ব পাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রস্তাবিত শান্তি উদ্যোগের দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। কমিটির প্রধান আলী শাথ জানান, গাজার পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারে প্রায় তিন বছর সময় লাগতে পারে বলে তারা আশা করছেন। তবে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) মনে করছে, ধ্বংসস্তূপ অপসারণ ও পূর্ণ পুনর্গঠনে অন্তত সাত বছর সময় প্রয়োজন হতে পারে।
শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশের পরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশেষ করে গাজার বিভিন্ন এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের সময়সূচি এবং হামাসের অস্ত্রসম্ভার সমর্পণ ইস্যুতে কোনো স্পষ্ট অগ্রগতি নেই। হামাস জানিয়েছে, তারা অস্ত্র সমর্পণে এখনও প্রস্তুত নয়, তবে টেকনোক্র্যাটিক কমিটির গঠনকে তারা “সঠিক দিকের একটি পদক্ষেপ” হিসেবে দেখছে।
বাস্তব পরিস্থিতিতে গাজার সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। শীতের মধ্যে কয়েক লক্ষ মানুষ অস্থায়ী ও অনিরাপদ আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক সমঝোতা বা নতুন পরিকল্পনা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে খাদ্য, আশ্রয় ও নিরাপত্তা সংকটের সমাধান হবে—এমন আশা তারা করছেন না। গাজায় এখনো সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন মানবিক সহায়তা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।