- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ভেনেজুয়েলায় যাতায়াতকারী যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত সব তেল ট্যাংকারের ওপর “সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক” অবরোধ আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ঘোষণা দেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নৌবহর দিয়ে ভেনেজুয়েলাকে কার্যত ঘিরে ফেলা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ চুরি, সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার ও মানবপাচারের অভিযোগে ভেনেজুয়েলার বর্তমান সরকারকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কারণ দেখিয়েই তিনি ভেনেজুয়েলায় প্রবেশ ও প্রস্থানকারী সব নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল ট্যাংকার আটকে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
এই ঘোষণার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ভেনেজুয়েলা সরকার। এক বিবৃতিতে তারা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে “অযৌক্তিক ও বিকৃত হুমকি” হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধের অজুহাতে ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করতে চাইছে।
এর আগে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল বহনকারী একটি ট্যাংকার জব্দ করে তেল লুট করেছে। তাঁর মতে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে জলদস্যুতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ উসকে দেবে। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছ থেকে ‘স্কিপার’ নামের ওই ট্যাংকারটি জব্দ করে টেক্সাসে নিয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে “স্পষ্টতই যুদ্ধের ঘোষণা” বলে মন্তব্য করেছেন টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান জোয়াকিন কাস্ত্রো। তিনি বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা মার্কিন জনগণও চায় না। তাঁর দাবি, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে শত্রুতা বন্ধে প্রেসিডেন্টকে নির্দেশ দেওয়ার বিষয়ে কংগ্রেসে শিগগিরই ভোটাভুটি হবে।
এদিকে ভেনেজুয়েলার উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ওয়াশিংটন দাবি করছে, মাদক পাচার ঠেকাতেই এই অভিযান। তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে চালানো অভিযানে অন্তত ৯০ জন নিহত হয়েছে, যা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শামিল হতে পারে।
ভেনেজুয়েলা বরাবরই অভিযোগ করে আসছে, মাদকবিরোধী অভিযান আসলে তাদের বিপুল তেল ও গ্যাস সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কৌশল। দেশটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র সরকার শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যেই এই চাপ সৃষ্টি করছে। উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলার কাছেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ চেয়েছে। দেশটির জাতিসংঘ প্রতিনিধি স্যামুয়েল মনকাদা নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে চিঠি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ট্যাংকার জব্দ ও নাবিকদের আটককে “রাষ্ট্রীয় জলদস্যুতা” বলে অভিযোগ করেছেন।
অন্যদিকে জানা গেছে, সাম্প্রতিক ট্যাংকার জব্দের পর কেবল যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানি শেভরনের চার্টার করা জাহাজগুলোই ভেনেজুয়েলা থেকে তেল নিয়ে আন্তর্জাতিক জলসীমায় যেতে পেরেছে। শেভরন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিশেষ অনুমতি নিয়ে ভেনেজুয়েলায় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পিডিভিএসএর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আরোপ করা কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে তা আরও জোরদার হওয়ায় ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি মারাত্মক সংকটে পড়েছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত ভেনেজুয়েলার মালিকানাধীন সিটগো কোম্পানি বিক্রির নির্দেশ দিয়েছে, যাতে বিপুল ঋণ পরিশোধ করা যায়।