- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে (ইউএনএসসি) যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কড়া অভিযোগ তুলেছে ভেনেজুয়েলা। দেশটির দাবি, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারকে উৎখাত করতে যুক্তরাষ্ট্র শুধু ভেনেজুয়েলাকেই নয়, পুরো লাতিন আমেরিকাকে লক্ষ্য করে একটি বৃহত্তর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ভেনেজুয়েলার জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মনকাদা বলেন, “এটি শুধু ভেনেজুয়েলার বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষা গোটা মহাদেশজুড়ে বিস্তৃত।” তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলপত্রেই বলা আছে—ভবিষ্যতে এই মহাদেশ তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
মনকাদার ভাষ্য, ভেনেজুয়েলাকে প্রথম লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে। এরপর দেশটিকে একঘরে করে ধাপে ধাপে পুরো অঞ্চলকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় লাতিন আমেরিকার দেশগুলো বিভক্ত থাকুক, যাতে সহজেই তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করা যায়।
ভেনেজুয়েলার অভিযোগ, গত সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে দেশটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা শুরু করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব জাহাজ মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত। তবে কোনো প্রমাণ না দিয়েই এই হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে কারাকাস। এসব অভিযানে এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে ভেনেজুয়েলার দাবি, যেগুলোকে তারা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছে।
নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে মনকাদা আরও বলেন, মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিজ দেশের আইন ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে। তিনি সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধকে “একটি সরাসরি সামরিক আগ্রাসন” বলে আখ্যা দেন।
ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূতের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর কোনো অজুহাত দিচ্ছে না। “এটি মাদক, নিরাপত্তা বা গণতন্ত্রের প্রশ্ন নয়—এটি তেল, খনিজ সম্পদ ও ভূমির প্রশ্ন,” বলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র অন্তত দুটি ভেনেজুয়েলার তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে এবং লাখ লাখ ব্যারেল তেল দখল করেছে।
অন্যদিকে, জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ভিন্ন সুরে কথা বলেন। তিনি জানান, লাতিন আমেরিকার মাদক চক্রগুলোই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি এবং এসব দমনে ওয়াশিংটন কঠোর পদক্ষেপ চালিয়ে যাবে। তাঁর দাবি, ভেনেজুয়েলার তেল থেকেই এসব চক্র অর্থায়ন পায়।
এই ইস্যুতে রাশিয়া সতর্ক করে বলেছে, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ ভবিষ্যতে লাতিন আমেরিকার অন্য দেশগুলোর বিরুদ্ধেও শক্তি প্রয়োগের নজির হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে চীন জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপ ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ন করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা পরিষদে এই বিতর্ক আবারও প্রমাণ করল—ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে এবং লাতিন আমেরিকা নতুন করে বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মঞ্চে পরিণত হচ্ছে।