- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার কাছে একটি বেসরকারি জেট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে লিবিয়ার সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল স্টাফ মোহাম্মদ আলী আহমেদ আল-হাদ্দাদ নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে আঙ্কারার এসেনবোয়া বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছু সময় পরই বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা সবাই নিহত হন।
তুরস্কের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে ছিলেন আল-হাদ্দাদসহ লিবিয়ার চারজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা এবং তিনজন ক্রু সদস্য। প্রাথমিক তদন্তে নাশকতার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, কারিগরি ত্রুটির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইয়েরলিকায়া বুধবার জানান, বিধ্বস্ত বিমানের ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করা হয়েছে এবং তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, আঙ্কারার হায়মানা জেলার কেসিক্কাভাক এলাকায় দুর্ঘটনাস্থল চিহ্নিত করা হয়েছে। উড্ডয়নের প্রায় ৪০ মিনিট পর বিমানটি জরুরি অবতরণের অনুরোধ জানিয়েছিল, কিন্তু অবতরণের আগেই রাডার থেকে হারিয়ে যায়।
লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দবেইবা এক শোকবার্তায় আল-হাদ্দাদের মৃত্যু নিশ্চিত করে একে ‘জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “দেশ ও সেনাবাহিনীর জন্য নিবেদিতপ্রাণ কয়েকজন কর্মকর্তাকে আমরা হারালাম। তাঁদের শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।”
নিহত অন্য কর্মকর্তারা হলেন—লিবিয়ার স্থলবাহিনীর প্রধান জেনারেল আল-ফিতুরি ঘারিবিল, সামরিক উৎপাদন কর্তৃপক্ষের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদ আল-কাতাওয়ি, চিফ অব স্টাফের উপদেষ্টা মুহাম্মদ আল-আসাওয়ি দিয়াব এবং সামরিক আলোকচিত্রী মুহাম্মদ ওমর আহমেদ মাহজুব।
তুরস্কের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিবীয় প্রতিনিধিদলটি আঙ্কারায় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে এসেছিলেন। দুর্ঘটনার পর লিবিয়ার ত্রিপোলিভিত্তিক জাতিসংঘ-স্বীকৃত সরকার (GNU) তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এ সময় সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে অর্ধনমিত থাকবে জাতীয় পতাকা এবং সব ধরনের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান স্থগিত থাকবে।
২০২০ সাল থেকে আল-হাদ্দাদ লিবিয়ার সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পশ্চিম ও পূর্ব লিবিয়ার বিভক্ত সেনা কাঠামোকে একীভূত করতে জাতিসংঘের উদ্যোগে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে লিবিয়ার রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
তুরস্কের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আঙ্কারা প্রধান সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে লিবিয়ার পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত দল তুরস্কে পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে।