Monday, January 19, 2026

থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সীমান্তে সংঘর্ষ অব্যাহত, যুদ্ধবিরতির দাবি নাকচ থাই প্রধানমন্ত্রীর


ছবিঃ এজঁস কাম্পুচিয়া প্রেস (একে‌পি) প্রকাশিত ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর তোলা একটি ছবিতে কম্বোডিয়ার পুরসাত প্রদেশে থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সীমান্তে সংঘর্ষের পর ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ির দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে কয়েকজন পুরুষকে। (সংগৃহীত । আল জাজিরা)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি মধ্যস্থতার দাবির পরও থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সামরিক সংঘর্ষ থামেনি। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দেশের ভূখণ্ড ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান চলবে।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় অনুতিন বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের দেশ ও জনগণের ওপর হুমকি থাকবে, ততক্ষণ থাইল্যান্ড সামরিক পদক্ষেপ চালিয়ে যাবে। আজ সকালের ঘটনাই আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে।”

থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সীমান্তবর্তী চং আন মা এলাকায় সংঘর্ষে চারজন থাই সেনা নিহত হন। এ নিয়ে গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া লড়াইয়ে থাই সেনাবাহিনীর নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক হামলায় কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো হতাহতের তথ্য জানানো হয়নি।

তবে দুই দেশের মিলিত হিসাবে ছয় দিনের সংঘর্ষে ২০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন। সীমান্তজুড়ে সহিংসতার কারণে উভয় দেশে প্রায় ছয় লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

ট্রাম্প শুক্রবার দাবি করেন, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনালাপের পর উভয় পক্ষ গুলিবর্ষণ বন্ধে সম্মত হয়েছে। তবে থাই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতিতে তারা সম্মতি দেননি। কম্বোডিয়াও ট্রাম্পের দাবির বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি।

এদিকে, কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও থাই বিমান বাহিনী দেশটির ভেতরে বোমা হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, দুটি যুদ্ধবিমান থেকে একাধিক স্থাপনায় বোমা নিক্ষেপ করা হয়, যাতে সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রাম ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে কম্বোডিয়া সরকার থাইল্যান্ডের সঙ্গে সীমান্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, থাইল্যান্ডে বসবাসরত কম্বোডীয় নাগরিক এবং কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত থাই নাগরিকরা আপাতত নিজ নিজ অবস্থানেই থাকবেন, যতক্ষণ না যুদ্ধবিরতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘর্ষ থাইল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। সম্প্রতি পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া প্রধানমন্ত্রী অনুতিনের জনপ্রিয়তা এই সংঘাতের কারণে বেড়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। আসন্ন নির্বাচনের আগে জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু তাঁর জন্য রাজনৈতিকভাবে লাভজনক হয়ে উঠতে পারে।

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্তসংলগ্ন কয়েকটি প্রাচীন মন্দিরের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে এই বিরোধ থেকেই বারবার উত্তেজনা ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হচ্ছে। সর্বশেষ এই লড়াই প্রমাণ করছে, কূটনৈতিক সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন