- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দেশ কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, থাইল্যান্ডের সামরিক বাহিনী দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত শহর পোইপেটে বোমা হামলা চালিয়েছে। পোইপেট থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া স্থলবন্দর হিসেবে পরিচিত এবং এটি ক্যাসিনোকেন্দ্রিক শহর হিসেবেও জনপ্রিয়।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে থাই বাহিনী পোইপেট পৌর এলাকায় দুটি বোমা নিক্ষেপ করে। শহরটি বান্তেয় মিঞ্চে প্রদেশে অবস্থিত। তবে এ ঘটনায় থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি।
কম্বোডিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত চারটি ক্যাসিনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ক্যাসিনোতে মূলত থাইল্যান্ডের নাগরিকরা জুয়া খেলতে আসেন, ফলে পোইপেট এলাকায় সব সময়ই জনসমাগম থাকে।
চলতি মাসে শুরু হওয়া নতুন দফার সংঘর্ষে দুই দেশে বড় ধরনের প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতি ঘটেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, থাইল্যান্ডে অন্তত ২১ জন এবং কম্বোডিয়ায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে প্রায় আট লাখ মানুষ নিরাপত্তাহীনতার কারণে নিজ বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
এদিকে থাইল্যান্ড জানিয়েছে, সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পোইপেটে এখনো পাঁচ থেকে ছয় হাজার থাই নাগরিক আটকা পড়েছেন। কম্বোডিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সীমান্ত বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তবে দেশ ছাড়তে চাইলে আকাশপথ খোলা রয়েছে।
এর আগে জুলাই মাসে টানা পাঁচ দিনের সংঘর্ষে উভয় দেশে বহু মানুষ নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই সেই সমঝোতা ভেঙে পড়ে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে যুদ্ধবিরতির দাবি করলেও থাইল্যান্ড তা অস্বীকার করেছে। ফলে কামান, ট্যাংক, ড্রোন ও যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে প্রতিদিনই সংঘর্ষ চলেছে।
দীর্ঘদিনের এই বিরোধের মূল কারণ ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের ঔপনিবেশিক আমলের সীমানা নির্ধারণ এবং সীমান্তবর্তী প্রাচীন মন্দির এলাকাকে কেন্দ্র করে মালিকানা দাবি। দুই দেশই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে আসছে যে, প্রতিপক্ষ প্রথম হামলা চালিয়েছে এবং বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে চীন জানিয়েছে, শান্তি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে তারা কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডে এশীয় বিষয়ক বিশেষ দূত পাঠাচ্ছে। কূটনৈতিক মহলে আশা করা হচ্ছে, এই ‘শাটল কূটনীতি’ চলমান সংঘর্ষ প্রশমনে কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখতে পারে।