Monday, January 12, 2026

টানা সংঘর্ষের পর থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সীমান্তে যুদ্ধবিরতি


ছবিঃ কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী তিয়া সেইহা (বাঁ দিকে) এবং থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাথাফন নার্কফানিত (ডান দিকে) শনিবার যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর হাত মেলান এবং দলিলপত্র বিনিময় করেন (সংগৃহীত । আল জাজিরা । হ্যান্ডআউট: অ্যাজাঁস ক্যাম্পুচিয়া প্রেস, এএফপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া অবশেষে সীমান্ত সংঘর্ষ বন্ধে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ভয়াবহ লড়াইয়ে শতাধিক মানুষের প্রাণহানি এবং উভয় দেশে অর্ধমিলিয়নের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর এই সমঝোতা এলো।

শনিবার উভয় দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, চুক্তিতে স্বাক্ষরের পরপরই তা কার্যকর হবে। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা থেকে (গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৫টা) যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে। এতে সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহার বন্ধের পাশাপাশি বেসামরিক মানুষ, অবকাঠামো ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর যেকোনো ধরনের হামলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, দুই পক্ষই বর্তমানে মোতায়েন থাকা সেনাদের অবস্থান অপরিবর্তিত রাখবে এবং নতুন করে কোনো সেনা সরানো হবে না। একই সঙ্গে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এমন কোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপ কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকেও বিরত থাকার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

কম্বোডিয়ার সীমান্ত শহর পোইপেট থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গোলাগুলির শব্দ বন্ধ রয়েছে। তবে চুক্তি কার্যকরের ঠিক আগমুহূর্ত পর্যন্ত তীব্র গোলাবর্ষণ চলেছে, যা এই সমঝোতার ভঙ্গুরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। ফলে বাস্তুচ্যুত সাধারণ মানুষ এখনই ঘরে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না।

থাই প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাথাফন নার্কফানিত ও কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী তিয়া সেইহার মধ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ২০ দিনের টানা সংঘর্ষের অবসান ঘটল, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

চুক্তির অংশ হিসেবে থাইল্যান্ড ৭২ ঘণ্টা যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি বজায় থাকলে পূর্ববর্তী সংঘর্ষে আটক ১৮ জন কম্বোডীয় সেনাকে ফেরত দেওয়ার সম্মতি দিয়েছে। এছাড়া যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর একটি পর্যবেক্ষক দল কাজ করবে।

আগামী রোববার কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রাক সোখন্ন চীনের ইউনান প্রদেশে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই–এর সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সীমান্তে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা এই যুদ্ধবিরতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি স্থায়ীভাবে শান্ত না হলে বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষ ঘরে ফেরার সিদ্ধান্ত নেবেন না।

উল্লেখ্য, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে দীর্ঘদিনের ভূখণ্ড বিরোধ রয়েছে। সীমান্তের কয়েকটি প্রাচীন মন্দির নিয়ে দুই দেশের দাবি এবং ঔপনিবেশিক আমলের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে অসন্তোষ চলে আসছে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষেও উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার অভিযোগ তুলেছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন