- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
তাইওয়ানকে ১১.১ বিলিয়ন ডলারের বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এটি স্বশাসিত দ্বীপটির জন্য ওয়াশিংটনের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ অস্ত্র সহায়তা প্যাকেজ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বুধবার রাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতির উদ্দেশে দেওয়া টেলিভিশন ভাষণের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়।
অনুমোদিত অস্ত্র তালিকায় রয়েছে ৮২টি হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম (হিমার্স) এবং ৪২০টি আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (এটিএসিএমএস), যার মোট মূল্য চার বিলিয়ন ডলারের বেশি। এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনকে রাশিয়ার আকাশ হামলা মোকাবিলায় যে ধরনের অস্ত্র দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে মিল রয়েছে।
এ ছাড়া প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ৬০টি স্বচালিত হাউইটজার কামান ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম, যেগুলোর মূল্যও চার বিলিয়ন ডলারের বেশি। পাশাপাশি এক বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের ড্রোন, সামরিক সফটওয়্যার, জ্যাভেলিন ও টো মিসাইল, হেলিকপ্টারের খুচরা যন্ত্রাংশ এবং হারপুন মিসাইল সংস্কারের কিটও রয়েছে।
পেন্টাগন পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই অস্ত্র বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করবে এবং তাইওয়ানের সশস্ত্র বাহিনী আধুনিকায়ন ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রেসিডেন্টের দপ্তর। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় তাইওয়ান আত্মরক্ষার সক্ষমতা জোরদার করতে পারবে এবং শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। প্রেসিডেন্ট দপ্তরের মুখপাত্র কারেন কুও জানান, তাইওয়ান প্রতিরক্ষা খাতে সংস্কার অব্যাহত রাখবে এবং পুরো সমাজকে প্রতিরক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে শান্তি রক্ষার দৃঢ় সংকল্প দেখাবে।
অন্যদিকে, এই অস্ত্র চুক্তি নিয়ে চীনের তীব্র প্রতিক্রিয়া আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেইজিং বরাবরই তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়েছে। চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তর এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘এক চীন নীতি’ মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তাইওয়ানকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করার দাবি করেছে।
চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাইওয়ানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব স্বাধীনতার পথে এগোচ্ছে এবং বাইরের শক্তির সহায়তায় দ্বীপটিকে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকিতে ফেলছে।
উল্লেখ্য, গত মাসে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই চিং-তে ২০২৬ থেকে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত সময়ের জন্য ৪০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা বাজেট ঘোষণা করেন। তিনি তখন বলেছিলেন, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপসের সুযোগ নেই।