- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN
চীন ও তাইওয়ানের ‘পুনঃএকত্রীকরণ’ অনিবার্য বলে মন্তব্য করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। নববর্ষ উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, সময়ের ধারায় এই লক্ষ্য অপ্রতিরোধ্য এবং তাইওয়ান প্রণালীর দুই পাশে বসবাসকারী চীনা জনগণের মধ্যে রয়েছে রক্তের বন্ধন ও আত্মীয়তার সম্পর্ক।
তাইওয়ানকে ঘিরে চীনের সামরিক বাহিনীর বড় পরিসরের যুদ্ধ মহড়া শেষ হওয়ার একদিন পর বুধবার এই ভাষণ দেন শি জিনপিং। তিনি জানান, ২০২৫ সাল থেকে প্রতিবছর ‘তাইওয়ান পুনরুদ্ধার দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে দ্বীপটি থেকে জাপানি শাসনের অবসানকে স্মরণ করতেই এ দিবস পালিত হবে বলে জানান তিনি।
চীনা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই সামরিক মহড়ায় তাইওয়ান অবরোধের অনুকরণে সরাসরি গোলাবর্ষণসহ বিভিন্ন কৌশল প্রদর্শন করা হয়। ‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ নামে পরিচিত এ মহড়াকে তারা বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা ও বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। ভৌগোলিক বিস্তৃতির দিক থেকে এটিই তাইওয়ান ঘিরে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সামরিক অনুশীলন বলে দাবি করা হচ্ছে।
এই মহড়ার কয়েকদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের জন্য ইতিহাসের সর্ববৃহৎ অস্ত্র সহায়তা অনুমোদন দেয়, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চীন দীর্ঘদিন ধরেই স্বশাসিত **তাইওয়ান**কে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের কথাও বলে আসছে।
অন্যদিকে, তাইওয়ানের ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি মনে করে, দ্বীপটি কার্যত একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়নি। নববর্ষের ভাষণে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে জাতীয় সার্বভৌমত্ব দৃঢ়ভাবে রক্ষা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদারের কথা জানান। তাঁর মতে, চীনের ক্রমবর্ধমান সম্প্রসারণমূলক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে তাইওয়ানের জনগণ নিজেদের রক্ষা করতে কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ—তা বিশ্ব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
যদিও তাইওয়ানের নিজস্ব সরকার, সেনাবাহিনী, পাসপোর্ট ও মুদ্রা রয়েছে, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এখনো সীমিত। মাত্র ১১টি দেশ ও ভ্যাটিকান সিটি দ্বীপটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। চীনের কূটনৈতিক অবস্থানের কারণে অধিকাংশ দেশ বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে তাইপের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় না।
যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে তাইওয়ানকে স্বীকৃতি না দিলেও, ১৯৭৯ সালের আইন অনুযায়ী দ্বীপটির আত্মরক্ষায় সহায়তার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তবে কোনো অবরোধ বা আগ্রাসনের ক্ষেত্রে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের বাধ্যবাধকতা ওই আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই।
বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, তাইওয়ানের অধিকাংশ মানুষ বর্তমান অবস্থা বজায় রাখার পক্ষে। স্বাধীনতা ঘোষণা বা চীনের সঙ্গে একত্রীকরণের পক্ষে সমর্থন তুলনামূলকভাবে কম।
ভাষণের শেষভাগে শি জিনপিং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশ গবেষণায় চীনের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে শিল্পখাতের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করার ফলে উচ্চমানের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে এবং নিজস্ব চিপ গবেষণায় সাফল্য চীনকে দ্রুত উদ্ভাবনী সক্ষমতার অর্থনীতির কাতারে পৌঁছে দিয়েছে।