- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় জীবনরক্ষাকারী সহায়তা দেওয়া আন্তর্জাতিক ত্রাণসংস্থাগুলোর ওপর ইসরায়েলের আসন্ন নিষেধাজ্ঞা ঘিরে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। তাঁদের আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ইতোমধ্যে বিপর্যস্ত মানবিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।
খান ইউনিসের বাসিন্দা সিরাজ আল-মাসরি বুধবার আল জাজিরাকে বলেন, “গাজায় আন্তর্জাতিক সহায়তার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের কোনো আয় নেই, টাকা নেই। হাতে গোনা কয়েকটি চিকিৎসা কেন্দ্রই কেবল খোলা আছে। এই সহায়তা বন্ধ হলে আহত ও সাধারণ রোগীদের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে।”
ইসরায়েল জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে ৩৭টি আন্তর্জাতিক এনজিওর লাইসেন্স বাতিল করা হবে। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে Doctors Without Borders (এমএসএফ), Norwegian Refugee Council, CARE International এবং International Rescue Committee। নতুন বিধিমালার আওতায় ত্রাণসংস্থাগুলোকে তাদের কর্মী ও কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে হবে—এমন দাবি ইসরায়েলের। তবে এসব সংস্থার বিরুদ্ধে হামাসের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগগুলো প্রমাণহীন বলে সমালোচনা উঠেছে।
গাজার আরেক বাসিন্দা রামজি আবু আল-নিল বলেন, “সহায়তা থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি এখনই করুণ। যদি এই সংস্থাগুলো সরে যায়, কী হবে আল্লাহই জানেন। শিশুদের মৃত্যু বাড়বে, পরিবারগুলো ধ্বংস হবে।”
এদিকে মঙ্গলবার কানাডা, ফ্রান্স, জাপান ও যুক্তরাজ্যসহ ১০ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক যৌথ বিবৃতিতে গাজায় আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর “নিরবচ্ছিন্ন ও পূর্বানুমেয়ভাবে” কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “তাদের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের ছাড়া জরুরি চাহিদা পূরণ অসম্ভব।”
যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা ও ত্রাণপ্রবেশে বিধিনিষেধ অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত গাজার এক মিলিয়নের বেশি মানুষ শীতের মধ্যে অস্থায়ী তাঁবুতে দিন কাটাচ্ছে। অর্থনৈতিক কার্যক্রম ভেঙে পড়ায় জনগণ আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।
এ প্রেক্ষাপটে United Nations Relief and Works Agency (UNRWA) ইসরায়েলের সিদ্ধান্তকে মানবিক কার্যক্রমকে আরও সংকটে ফেলবে বলে সতর্ক করেছে। সংস্থাটির প্রধান ফিলিপ লাজারিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত “বিপজ্জনক নজির” স্থাপন করছে এবং মানবিক সহায়তার নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করছে।
গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে প্রায় ৫০০ ত্রাণকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক নিহত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এনজিও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে যুদ্ধবিরতির শর্ত ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার মানবিক সহায়তা সংক্রান্ত ধারার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক হবে।
সব মিলিয়ে, গাজায় আন্তর্জাতিক ত্রাণসংস্থাগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে মানবিক সংকট আরও গভীর হবে—এমন আশঙ্কাই এখন প্রবল।