Monday, January 19, 2026

সুদানের কর্দোফান অঞ্চলে গোলাবর্ষণে অন্তত ১৬ বেসামরিক নিহত


ছবিঃ সুদানে চলমান যুদ্ধ দেশটিতে একটি ব্যাপক মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে। (সংগৃহীত। আল জাজিরা । ইব্রাহিম হামিদ / এএফপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

সুদানের সংঘাতপূর্ণ কর্দোফান অঞ্চলের অবরুদ্ধ একটি শহরে গোলাবর্ষণের ঘটনায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির চলমান গৃহযুদ্ধ তৃতীয় বছরে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে বেসামরিক মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।

সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দিনে শুক্রবার পর্যন্ত দক্ষিণ কর্দোফানের ডিলিং শহরের আবাসিক এলাকায় র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) ও তাদের মিত্র সুদান পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট–নর্থ (এসপিএলএম-এন) ব্যাপক গোলাবর্ষণ চালায়। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরাও রয়েছেন। সংগঠনটি এই হামলাকে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করার ঘটনা বলে নিন্দা জানিয়েছে।

ডিলিংয়ে এই হামলা কর্দোফানজুড়ে চলমান সহিংসতারই অংশ, যেখানে চলতি ডিসেম্বরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত শতাধিক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। পশ্চিম দারফুর থেকে সংঘাত ছড়িয়ে এখন সুদানের কেন্দ্রীয় ও কৌশলগত অঞ্চলে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

টানা গোলাবর্ষণে ডিলিং শহরের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে অবরোধের মধ্যে থাকা শহরটি ইতোমধ্যে কলেরা ও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিল।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ দিক থেকে কর্দোফানের তিনটি রাজ্য থেকে সহিংসতার কারণে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। শুধু ডিলিং শহর থেকেই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন অন্তত ৭১০ জন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার ভাষায়, অনেকেই “অকথ্য ভয়াবহতা” প্রত্যক্ষ করে সর্বস্ব হারিয়ে আশপাশের এলাকায় আশ্রয় নিচ্ছেন।

চলতি মাসের শুরুতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার টুর্ক সতর্ক করে বলেন, দারফুরে সংঘটিত গণহত্যার পুনরাবৃত্তি কর্দোফানেও ঘটছে। বিশেষ করে এল-ফাশেরকে জাতিসংঘ ইতোমধ্যে একটি ‘অপরাধস্থল’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ কর্দোফানের রাজধানী কাদুগলিতে ড্রোন হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এ হামলাকে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ বলে উল্লেখ করেন। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সেখানে জাতিসংঘ মিশনের লজিস্টিক ঘাঁটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

২০২৩ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত এক লাখের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থার দাবি। জাতিসংঘ একে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন