Monday, January 19, 2026

ইউক্রেনকে সুদমুক্ত ঋণ দিতে সম্মত ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রুশ সম্পদ ব্যবহারে অসম্মতি


ছবিঃ ডোনেৎস্ক অঞ্চলের সামনের সারির শহর কস্তিয়ানতিনিভকায় রুশ সামরিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের পাশে হেঁটে যাচ্ছেন এক ইউক্রেনীয় সেনাসদস্য। ছবিটি তোলা হয়েছে ইউক্রেনে ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫। (সংগৃহীত। আল জাজিরা । ওলেগ পেত্রাসিউক / ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর ২৪তম ‘কিং দানিলো’ পৃথক যান্ত্রিক ব্রিগেডের প্রেস সার্ভিস / রয়টার্সের মাধ্যমে হ্যান্ডআউট)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাহিদা মেটাতে আগামী দুই বছরের জন্য সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা শুক্রবার ভোরে এ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত আলোচনা শেষে ইইউ নেতারা ঐকমত্যে পৌঁছান যে, ইউক্রেনকে সহায়তার অর্থ জোগাড় করা হবে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার থেকে ঋণ নিয়ে। এর মাধ্যমে বিতর্কিতভাবে জব্দ করা রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত থাকছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় কস্তা জানান, ২০২৬ ও ২০২৭ সালের জন্য ইউক্রেনকে মোট ৯০ বিলিয়ন ইউরো সহায়তা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, এখন তা বাস্তবায়ন করা হলো।”

ইইউ সূত্রে জানা গেছে, এই ঋণ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজেটের গ্যারান্টিতে নেওয়া হবে এবং এর ফলে হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের ওপর কোনো আর্থিক দায় চাপবে না। এই তিন দেশ ইউক্রেনকে অর্থায়নে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিল।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি কিয়েভের প্রতিরোধ সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার করবে। তিনি বলেন, “এই সহায়তা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে রাশিয়ার জব্দ করা সম্পদ স্থগিত থাকাও ইউক্রেনের জন্য একটি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা।”

অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ অর্থনৈতিক দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ ইইউর এই সিদ্ধান্তকে ‘আইন ও বাস্তববোধের জয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেন, রুশ সম্পদ ব্যবহার না করায় ইউরোপ সম্ভাব্য আইনি ও অর্থনৈতিক সংঘাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

এর আগে ইইউর ভেতরে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জব্দ করা সম্পদ ব্যবহার করে ইউক্রেনকে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে তীব্র মতভেদ দেখা দেয়। বিশেষ করে বেলজিয়াম, যেখানে বিপুল পরিমাণ রুশ সম্পদ রাখা আছে, সম্ভাব্য আইনি ঝুঁকি ও রাশিয়ার পাল্টা প্রতিক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।

ইইউ নেতারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে রাশিয়ার কাছ থেকে যুদ্ধক্ষতিপূরণ আদায় হলে সেখান থেকেই ইউক্রেন এই ঋণ পরিশোধ করবে। ততদিন পর্যন্ত রুশ সম্পদ জব্দ অবস্থায় থাকবে এবং প্রয়োজনে সেই সম্পদ ঋণ পরিশোধে ব্যবহারের অধিকার সংরক্ষণ করবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন এড়িয়ে ইউক্রেনকে তাৎক্ষণিক অর্থায়নের একটি বাস্তবসম্মত পথ তৈরি করেছে। তবে রাশিয়ার জব্দ সম্পদ নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক ভবিষ্যতেও ইইউর আলোচনায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন