Monday, January 19, 2026

সিরিয়ায় আইএস লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের সামরিক অভিযানের ঘোষণা ট্রাম্পের


ছবিঃ সিরিয়ায় এক হামলায় নিহত দুই মার্কিন ন্যাশনাল গার্ড সদস্য ও একজন দোভাষীর মরদেহ দেশে ফেরত আসার উপলক্ষে শুক্রবার আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।(সংগৃহীত । আল জাজিরা । অ্যান্ড্রু ক্যাবালেরো-রেনল্ডস/এএফপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

সিরিয়ায় আইএস (আইএসআইএল) জঙ্গিদের লক্ষ্য করে ব্যাপক সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে সিরিয়ার পালমিরা এলাকায় দুই মার্কিন সেনা ও একজন দোভাষী নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান চালানো হয়েছে।

শুক্রবার রাতে নর্থ ক্যারোলিনার রকি মাউন্টে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, নিহত মার্কিন নাগরিকদের হত্যার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে তিনি “ব্যাপক ও নিখুঁত” হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, এই অভিযানে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে এবং তা সফল হয়েছে।

সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, পূর্ব সিরিয়ার দেইর আজ-জোর প্রদেশে চালানো হামলায় আইএসের অন্তত পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ড্রোন পরিচালনাকারী একটি সেলের প্রধানও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সিরিয়ার নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা মূলত দেশটির বিস্তৃত বাদিয়া মরুভূমি অঞ্চল, হোমস, দেইর আজ-জোর ও রাক্কা প্রদেশে আইএসের বিভিন্ন আস্তানাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়। এ অভিযানে স্থল অভিযান পরিচালনা করা হয়নি।

এদিকে ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গঠিত সিরিয়ার নতুন সরকার এই মার্কিন অভিযানের বিষয়ে সমর্থন জানিয়েছে। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও আইএসবিরোধী লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে।

মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সিরিয়ার ভূখণ্ডে আইএসের কোনো নিরাপদ আশ্রয় থাকতে দেওয়া হবে না এবং যেখানে হুমকি সৃষ্টি হবে, সেখানেই সামরিক অভিযান জোরদার করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’ নামে পরিচালিত এই অভিযানে আইএসের যোদ্ধা, অস্ত্রাগার ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর মতে, এটি কোনো যুদ্ধের সূচনা নয়, বরং নিহত মার্কিন নাগরিকদের জন্য কঠোর জবাব।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, অভিযানে যুদ্ধবিমান, আক্রমণকারী হেলিকপ্টার ও ভারী আর্টিলারি ব্যবহার করে শতাধিক নির্ভুল গোলাবারুদ নিক্ষেপ করা হয়েছে। এ অভিযানে জর্ডানের বিমান বাহিনীও সহায়তা করেছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পালমিরা ও রাক্কা অঞ্চলে সারা রাত যুদ্ধবিমানের শব্দ ও বিস্ফোরণ শোনা গেছে। এক মার্কিন কর্মকর্তার তথ্যমতে, প্রায় ৭০টি লক্ষ্যবস্তুতে আইএসের অস্ত্র ও অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে পালমিরায় এক হামলায় তিনজন মার্কিন নাগরিক নিহত হন। যুক্তরাষ্ট্র সে হামলার জন্য আইএসকে দায়ী করে প্রতিশোধের ঘোষণা দেয়। বর্তমানে সিরিয়ায় প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে, যারা আইএসের অবশিষ্ট শক্তির বিরুদ্ধে অভিযানে নিয়োজিত রয়েছে।

২০১৮ সালে সিরিয়ায় আইএস পরাজিত হলেও সংগঠনটি এখনো বিচ্ছিন্ন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া একদিকে পুনর্গঠনের চেষ্টা চালালেও নিরাপত্তা হুমকি দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন