- ১২ জানুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইরানে চলমান দেশব্যাপী বিক্ষোভকে সহিংস রূপ দেওয়ার পেছনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরির জন্যই আন্দোলনকে “রক্তক্ষয়ী ও সহিংস” করে তোলা হয়েছে।
সোমবার তেহরানে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে আরাঘচি বলেন, গত সপ্তাহান্তে সহিংসতা বেড়েছিল, তবে বর্তমানে পরিস্থিতি সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপের হুমকির পরই “সন্ত্রাসী গোষ্ঠী” আন্দোলনকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে, যাতে বিদেশি হস্তক্ষেপের পথ তৈরি হয়। তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরান যুদ্ধের জন্য যেমন প্রস্তুত, তেমনি সংলাপের পথও খোলা রাখতে চায়।
আরাঘচির ভাষ্য অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের কাছে এমন ভিডিও ফুটেজ রয়েছে যেখানে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অস্ত্র বিতরণের চিত্র দেখা যায়। আটক ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তিও শিগগির প্রকাশ করা হবে বলে তিনি জানান। তাঁর অভিযোগ, বিদেশি শক্তি বিক্ষোভে ইন্ধন জুগিয়েছে এবং দায়ীদের খুঁজে বের করতে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালাবে।
ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। এ সময় দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রয়েছে, যা মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। নজরদারি সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, টানা চার দিন ধরে ইরানে কার্যত জাতীয় পর্যায়ের ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে। যদিও কিছু মানুষ বিকল্প উপায়ে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছেন।
বিক্ষোভে নিহতদের স্মরণে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতায় অন্তত ১০৯ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর সংখ্যা সরকারিভাবে জানানো হয়নি। দেশের বাইরে থাকা বিরোধী কর্মীরা বলছেন, নিহতদের সংখ্যা আরও বেশি এবং এর মধ্যে বহু সাধারণ মানুষ রয়েছেন।
শুরুতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হলেও তা দ্রুত সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। রাজধানী তেহরানের কয়েকটি এলাকায় এবং কিছু প্রদেশে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেলেও সরকারি বার্তায় বলা হচ্ছে, অধিকাংশ এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার বলেছেন, ইরান পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটন “খুবই শক্ত পদক্ষেপের” কথা ভাবছে, যার মধ্যে সামরিক বিকল্পও রয়েছে। এর জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের ওপর হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তু বৈধ প্রতিরোধের আওতায় আসবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে এই বিক্ষোভ ইরানের নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে—এমন বার্তা দিতে শিগগিরই ইন্টারনেট সংযোগ আংশিকভাবে চালু করার উদ্যোগ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।