- ১২ জানুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপের কথা ভাবছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামরিক হস্তক্ষেপসহ একাধিক শক্ত বিকল্প নিয়ে ওয়াশিংটন গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
রোববার গভীর রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও বেসামরিক নীতিনির্ধারকরা। তাঁর ভাষায়, “আমরা বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সামরিক বাহিনী বিষয়টি পর্যালোচনা করছে, আমরাও শক্ত কিছু বিকল্প নিয়ে ভাবছি। শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকির পর ইরানের নেতৃত্ব ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ দেখিয়েছে এবং একটি বৈঠকের প্রস্তুতিও চলছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনার আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।
এ বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে ইরানের নেতারা স্পষ্টভাবে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের ক্বালিবাফ বলেছেন, ইরানে আক্রমণ হলে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সব মার্কিন ঘাঁটি ও নৌযানকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে ইরানে অস্থিরতার সূচনা হয়। দেশটির মুদ্রা রিয়ালের ব্যাপক দরপতনের প্রতিবাদ থেকেই শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে বিক্ষোভকারীদের দাবি শুধু অর্থনৈতিক সংকটেই সীমাবদ্ধ না থেকে শাসক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও রূপ নেয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, চলমান সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১০৯ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে বিদেশভিত্তিক বিরোধী সংগঠনগুলোর দাবি, নিহতদের সংখ্যা আরও বেশি এবং এতে বহু বিক্ষোভকারীও রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার টানা তিন দিনের বেশি সময় ধরে দেশব্যাপী ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রেখেছে বলে জানিয়েছে পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রোববার বলেছেন, তাঁর সরকার বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য শুনতে প্রস্তুত। তবে তিনি ‘দাঙ্গাকারী’ ও ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’কে অরাজকতা সৃষ্টির সুযোগ না দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে।
এদিকে, হোয়াইট হাউস সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার ট্রাম্প শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করবেন। আলোচনায় সামরিক হামলা, সাইবার আক্রমণ, নিষেধাজ্ঞা জোরদার এবং সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে অনলাইন সহায়তা দেওয়ার মতো বিষয় থাকতে পারে।
ইরানের ইন্টারনেট বন্ধ নিয়ে ট্রাম্প জানান, তিনি স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা করছেন। ইরানে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
একই সময়ে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা ও গ্রিনল্যান্ড নিয়েও আগ্রাসী অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং সেখানে বিনিয়োগ করা বিদেশি তেল কোম্পানিগুলো নিরাপদ থাকবে বলে আশ্বাস দেন।
গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ওই ভূখণ্ড অধিগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করছে এবং প্রয়োজনে অন্য পথেও এগোতে পারে। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র না এগোলে রাশিয়া ও চীন অঞ্চলটি দখলের চেষ্টা করতে পারে।