Saturday, October 17, 2026

প্রতারণা শনাক্ত থেকে মহাকাশে এআই, স্টার্টআপ ব্যাটলফিল্ডের চূড়ান্ত পর্বে ৫ প্রতিষ্ঠান


ছবিঃ ডিসরাপ্ট (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বন্য প্রাণী নিয়ন্ত্রণ, মানবদেহের ক্ষুদ্র অঙ্গের গবেষণা, শিল্পকারখানায় রোবটের ব্যবহার এবং মহাকাশে কম্পিউটিং প্রযুক্তির ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে হাজির হয়েছে পাঁচটি স্টার্টআপ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চ আয়োজিত ‘স্টার্টআপ ব্যাটলফিল্ড ২০২৬’-এর চূড়ান্ত পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে নির্বাচিত এই পাঁচ প্রতিষ্ঠান।

টেকক্রাঞ্চ ডিসরাপ্ট ২০২৬ সম্মেলনে টানা দুই দিন ধরে ২০টি স্টার্টআপ নিজেদের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন বিচারকদের সামনে তুলে ধরে। সরাসরি প্রযুক্তি প্রদর্শন এবং বিশেষজ্ঞদের কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার পর সেখান থেকে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত পর্বের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।

এবারের প্রতিযোগিতায় মহাকাশ ও ফিজিক্যাল এআই, জ্বালানি ও উৎপাদনশিল্প, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি ও জীবনবিজ্ঞান এবং এন্টারপ্রাইজ ও নিরাপত্তা এই চারটি বিভাগে উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোকে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

চূড়ান্ত পর্বে বিজয়ী প্রতিষ্ঠান পাবে ‘স্টার্টআপ ব্যাটলফিল্ড কাপ’ এবং এক লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার। এ অর্থের জন্য প্রতিষ্ঠানের মালিকানা বা শেয়ার ছাড়তে হবে না। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রশান্ত মহাসাগরীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

চূড়ান্ত পর্বে জায়গা পাওয়া অ্যাপেট.এআই (Apate.ai) প্রতারণা শনাক্ত ও প্রতারকদের কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এজেন্ট তৈরি করছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি হাজারো এআই এজেন্টকে সাধারণ মানুষের মতো আচরণ করার সুযোগ দেয়। এসব এজেন্ট প্রতারণামূলক ফোনকলের উত্তর দিতে, সন্দেহজনক বার্তা ও ইমেইলে সাড়া দিতে, ফিশিং লিংকে প্রবেশ করতে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে যুক্ত হতে পারে।

বিভিন্ন বয়স, লিঙ্গ, উচ্চারণ ও ভাষার মানুষের মতো আচরণ করে এজেন্টগুলো প্রতারকদের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যায়। এর মাধ্যমে প্রতারণার কৌশল ও সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করাই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য।

ফ্লক্স ইন্টেলিজেন্স (Flox Intelligence) তৈরি করেছে বন্য প্রাণীকে রেলপথ, বিমানবন্দর ও সড়ক থেকে দূরে রাখার প্রযুক্তি। প্রচলিত সাইরেন, আলো, বেড়া কিংবা অন্য পদ্ধতির পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানটি প্রাণীর আচরণ শনাক্ত করতে সক্ষম সেন্সর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে।

প্রযুক্তিটিতে কোনো প্রাণীর চলাচল শনাক্ত হলে ক্যামেরা সক্রিয় হয়। যন্ত্রের ভেতরেই থাকা এআই মডেল আশপাশের প্রাণী শনাক্ত করে এবং সেই প্রজাতির উপযোগী শব্দ নির্গত করে প্রাণীটিকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এর মাধ্যমে প্রাণী ও মানুষের চলাচলের অবকাঠামোর মধ্যে সংঘর্ষের ঝুঁকি কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ইন্টারো বায়োসিস্টেমস (Intero Biosystems) পরীক্ষাগারে মানুষের অন্ত্রের মতো টিস্যু বা অর্গানয়েড তৈরির কাজ করছে। এসব ক্ষুদ্র জৈব মডেল ব্যবহার করে ওষুধ ও বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান মানবদেহে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা গবেষণার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের তৈরি অর্গানয়েডে মানুষের অন্ত্রে থাকা একাধিক ধরনের কোষ ও টিস্যুর বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ফলে অন্ত্রের কেবল একটি অংশের অনুকরণকারী অপেক্ষাকৃত সরল মডেলের তুলনায় এটি ওষুধের প্রভাব বুঝতে আরও কার্যকর হতে পারে। মানুষের ওপর পরীক্ষা চালানোর আগের ধাপে এবং প্রাণীর ওপর নির্ভরতা কমানোর গবেষণায় এ প্রযুক্তি কাজে লাগানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল নেক্সট (Industrial Next) শিল্পকারখানার উৎপাদনপ্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত রোবট স্টেশন তৈরি করছে। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব এআই মডেল ক্যামেরায় দেখা দৃশ্য, কাজের ধরন এবং রোবটের নড়াচড়ার মধ্যে সমন্বয় ঘটায়।

কোম্পানিটির লক্ষ্য, উৎপাদন লাইনে নতুন কাজ যুক্ত করা বা কাজের ধরন পরিবর্তনের জন্য প্রচলিত পদ্ধতিতে দীর্ঘ সময় ধরে রোবট প্রোগ্রাম করার প্রয়োজন কমানো। তাদের প্রযুক্তির মাধ্যমে কয়েক সপ্তাহের পরিবর্তে কয়েক মিনিটের মধ্যেই উৎপাদনব্যবস্থা নতুন কাজের উপযোগী করে তোলা সম্ভব বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।

এর ফলে জটিল ও সূক্ষ্ম কাজেও কারখানার স্বয়ংক্রিয়তা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির কিছু রোবট স্টেশন ইতিমধ্যে বিশ্বের বহুল ব্যবহৃত স্মার্টফোনগুলোর একটির উৎপাদনকাজে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জানিয়েছে টেকক্রাঞ্চ।

স্যাটলাইট (Satlyt) এমন সফটওয়্যার তৈরি করছে, যার মাধ্যমে একাধিক উপগ্রহ মহাকাশে বড় ধরনের কম্পিউটিং কাজ ভাগ করে নিতে পারবে। প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে দুটি পরীক্ষামূলক মহাকাশ অভিযানে তাদের সফটওয়্যার ব্যবহার করেছে। প্রাথমিকভাবে মহাকাশযানের কার্যক্রম আরও দক্ষ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে তারা।

সাধারণত মহাকাশযানের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য পৃথিবীতে থাকা নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের ওপর নির্ভর করতে হয়। মহাকাশযানের ভেতরেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হলে যোগাযোগের প্রয়োজন কমানো এবং পরিচালন ব্যয় সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

স্যাটলাইটের পরবর্তী লক্ষ্য দুটি উপগ্রহকে যুক্ত করে একটি যৌথ কম্পিউটিং ব্যবস্থা বা ক্লাউড তৈরি করা। সফল হলে মহাকাশে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উপগ্রহ পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

প্রযুক্তির ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করলেও পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য মূলত বাস্তব সমস্যার নতুন সমাধান তৈরি করা। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে বিশেষজ্ঞ বিচারকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে নির্বাচিত হবে বিজয়ী প্রতিষ্ঠান। পুরস্কারের পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রযুক্তি অঙ্গনে নিজেদের উদ্ভাবন তুলে ধরার সুযোগও পাচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন