- ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা Amnesty International দাবি করেছে, নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত স্পাইওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Intellexa–এর এক সরকারি গ্রাহক অ্যাঙ্গোলার এক প্রভাবশালী সাংবাদিকের ফোনে নজরদারি সফটওয়্যার প্রবেশ করিয়েছে।
সংস্থাটির প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে স্থানীয় সাংবাদিক ও গণমাধ্যম স্বাধীনতা কর্মী টেইশেইরা ক্যান্ডিদোকে একাধিকবার হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ক্ষতিকর লিংক পাঠানো হয়। এর মধ্যে একটি লিংকে ক্লিক করার পর তার আইফোনে ‘প্রেডেটর’ নামের স্পাইওয়্যার প্রবেশ করে।
গবেষকদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আক্রান্ত ফোনে এমন কিছু ফরেনসিক চিহ্ন পাওয়া গেছে যা ইন্টেলেক্সার স্পাইওয়্যার অবকাঠামোর সঙ্গে মিলে যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হ্যাকিংয়ের জন্য ব্যবহৃত সার্ভারগুলো পূর্বে ইন্টেলেক্সার কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল।
‘প্রেডেটর’ স্পাইওয়্যারটি ফোনে প্রবেশের পর নিজেকে আইওএসের স্বাভাবিক সিস্টেম প্রসেস হিসেবে উপস্থাপন করে গোপনে কার্যক্রম চালায়, যাতে সহজে শনাক্ত না হয়। তবে লিংকে ক্লিক করার কয়েক ঘণ্টা পর সাংবাদিক তার ফোন পুনরায় চালু করলে স্পাইওয়্যারটি মুছে যায়।
অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, অ্যাঙ্গোলায় আরও কয়েকটি ডোমেইন শনাক্ত করা হয়েছে যা একই স্পাইওয়্যার অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। তাদের ধারণা, ক্যান্ডিদো একমাত্র লক্ষ্য নাও হতে পারেন; দেশে নজরদারির বিস্তৃত প্রয়োগ থাকতে পারে।
প্রতিবেদনে সরাসরি কোন সরকারি সংস্থা হামলার পেছনে রয়েছে তা নিশ্চিত করা হয়নি। তবে গবেষকদের মতে, ২০২৩ সালের মার্চ থেকেই অ্যাঙ্গোলায় প্রেডেটর পরীক্ষামূলকভাবে বা সক্রিয়ভাবে ব্যবহার শুরু হয়েছিল বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
ইন্টেলেক্সা গত কয়েক বছরে বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং এর প্রতিষ্ঠাতা তাল দিলিয়ানসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তু করে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন দেশে রপ্তানি বিধিনিষেধ এড়িয়ে জটিল কর্পোরেট কাঠামোর মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
অ্যামনেস্টির নিরাপত্তা ল্যাবের প্রধান ডনচা ও কেয়ারভাইল বলেন, অ্যাঙ্গোলা ছাড়াও মিসর, পাকিস্তান ও গ্রিসসহ বিভিন্ন দেশে একই ধরনের অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার মতে, যেসব ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, তার বাইরেও অনেক নজরদারি কার্যক্রম অদৃশ্য থেকে যেতে পারে।
মানবাধিকার কর্মীদের আশঙ্কা, বাণিজ্যিক নজরদারি প্রযুক্তি ক্রমশ সরকারগুলোর হাতে এমন এক শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠছে, যা সাংবাদিক, রাজনৈতিক কর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর চাপ প্রয়োগে ব্যবহৃত হতে পারে।