- ১২ জানুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে জোরপূর্বক ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানকে উদ্দেশ করে কড়া বার্তা দিয়েছেন ইসরায়েলের বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় যা ঘটছে, তেহরানের তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
এই ঘটনা এমন এক সময় ঘটল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলায় মাদুরোর অপসারণ শুধু লাতিন আমেরিকায় নয়, মধ্যপ্রাচ্যেও বড় ধরনের অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট জামাল আবদি বলেন, “আইনের তোয়াক্কা না করে একের পর এক সিদ্ধান্ত বিশ্বকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। এতে যুদ্ধের সম্ভাবনা বাড়ছে।” তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ‘দ্রুত শাসন পরিবর্তন’ নীতিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তবে ইরানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার চাপ তৈরি হতে পারে।
ইরানভিত্তিক রাজনীতি বিশ্লেষক নেগার মোর্তাজাভি মনে করেন, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন পদক্ষেপ প্রমাণ করে ট্রাম্প প্রশাসন সর্বোচ্চ চাপের নীতিতে বিশ্বাসী। ফলে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও সংকুচিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “তেহরানে যে বার্তা যাচ্ছে, তা হলো—সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ ছাড়া আলোচনার সুযোগ নেই। এতে সংঘাতের পথই প্রশস্ত হচ্ছে।”
মাদুরো ছিলেন ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র। দুই দেশের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক ছিল শক্তিশালী। সিরিয়া ও লেবাননে ইরানপন্থী শক্তির দুর্বলতার পর ভেনেজুয়েলায় এই পরিবর্তন তেহরানের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
ইরান সরকার ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে এবং জাতিসংঘকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। তেহরানের দাবি, এই ধরনের পদক্ষেপ বিশ্বব্যবস্থাকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, মাদুরোর অপসারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ দেশগুলোর জন্য একটি ‘বার্তা’। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, প্রেসিডেন্ট যা বলেন, তা বাস্তবায়ন করেই ছাড়েন।
তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান কোনো চাপের কাছে মাথা নত করবে না। তাঁর ভাষায়, “শত্রুকে প্রতিরোধ করাই আমাদের পথ।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সম্পৃক্ততা ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ বিলম্বিত করতে পারে। আবার অন্য একটি শঙ্কা হলো—ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে, ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, মাদুরো অপসারণ শুধু একটি দেশের নেতৃত্ব পরিবর্তনের ঘটনা নয়; এটি বিশ্বরাজনীতিতে নতুন সংঘাতের সম্ভাবনা উসকে দিচ্ছে, যার প্রভাব পড়তে পারে মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার পর্যন্ত।