Monday, January 19, 2026

ইয়েমেন সরকার ও সৌদির চাপের মুখে ইউএই সেনা প্রত্যাহার, নিরাপত্তা সংকট ঘনীভূত


ছবিঃ সৌদি নেতৃত্বাধীন হামলার পর ইয়েমেন থেকে ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ ইউনিট প্রত্যাহার করবে ইউএই (সংগৃহীত । আল জাজিরা)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী মুকাল্লায় সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলাকে ঘিরে উপসাগরীয় দুই মিত্র—সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার পরই ইয়েমেন থেকে নিজেদের সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ইউএই।

মঙ্গলবার ভোরে চালানো ওই সামরিক অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছেন সৌদি জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি। তিনি জানান, মুকাল্লা বন্দরে প্রবেশের পর দেখা যায়, দুটি জাহাজে ৮০টিরও বেশি যানবাহন ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে। তাঁর দাবি, ইউএই কর্তৃপক্ষ সৌদি আরবকে অবহিত না করেই এসব যানবাহন, কনটেইনার ও আমিরাতি সেনাদের আল-রাইয়ান সামরিক ঘাঁটিতে স্থানান্তর করেছে।

আল-মালিকি বলেন, অভিযান পরিচালনার সময় যুদ্ধের নিয়ম ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা মেনে চলা হয়েছে।

এর কয়েক ঘণ্টা পর ইউএই আনুষ্ঠানিকভাবে ইয়েমেন থেকে তাদের ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ অভিযানের সমাপ্তি এবং অবশিষ্ট সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে তারা স্বেচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে তাদের সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

এই ঘোষণা আসে এমন সময়ে, যখন ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ইউএইকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়। সৌদি আরবও সেই দাবির প্রতি সমর্থন জানায়।

সৌদি আরবের অভিযোগ, ইউএই দক্ষিণ ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)-কে সমর্থন দিচ্ছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি অনুযায়ী, মুকাল্লা বন্দরে হামলার লক্ষ্য ছিল এসটিসির জন্য পাঠানো একটি অস্ত্রচালান, যা ইউএইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

এসটিসি সম্প্রতি সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে হাদরামাউত ও মাহরা প্রদেশসহ দক্ষিণ ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে নিয়েছে। এই দুই প্রদেশ সৌদি সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় রিয়াদ এটিকে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, হাদরামাউত ও মাহরায় সামরিক তৎপরতা চালাতে এসটিসির ওপর ইউএইয়ের চাপ “অগ্রহণযোগ্য” এবং সৌদি আরব তার নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

অন্যদিকে, ইউএই দাবি করেছে, মুকাল্লায় যেসব চালান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, সেগুলোতে অস্ত্র ছিল না এবং সেগুলো এসটিসির নয়, বরং আমিরাতি বাহিনীর জন্যই পাঠানো হয়েছিল। একই সঙ্গে তারা সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এদিকে ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি ইউএইয়ের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিল করেছেন এবং দেশটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন। ইয়েমেনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভাষণে তিনি অভিযোগ করেন, ইউএই সরাসরি এসটিসিকে উসকে দিয়ে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক বিদ্রোহে সহায়তা করছে।

তবে এসটিসি তাদের অবস্থানে অনড়। সংগঠনটির মুখপাত্র আনোয়ার আল-তামিমি বলেন, নতুন দখল করা এলাকা ছাড়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর ভাষায়, “নিজের ভূমি থেকে সরে যাওয়ার প্রশ্ন অবান্তর। প্রয়োজনে আমরা প্রতিরোধ করব।”

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ২০১৫ সালে হুথিদের বিরুদ্ধে গঠিত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ভেতরের বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন