Sunday, January 11, 2026

ইউক্রেন ওডেসায় রুশ ড্রোন হামলায় শিশুদেরসহ অন্তত ছয়জন আহত


ছবিঃ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মঙ্গলবার মস্কোতে একটি বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন (সংগৃহীত । আল জাজিরা । মিখাইল মেটজেল/পুল via রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

নববর্ষের প্রাক্কালে দেওয়া টেলিভিশন ভাষণে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে বলেই মস্কো বিশ্বাস করে। একই সময়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাঁর দেশ শান্তি চায় ঠিকই, তবে “যেকোনো মূল্যে” নয়।

বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে পুতিন ইউক্রেনে যুদ্ধরত রুশ সেনাদের “জাতির বীর” আখ্যা দিয়ে জনগণকে তাদের পাশে থাকার আহ্বান জানান। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর প্রায় চার বছর পরও তিনি বলেন, “আমরা আপনাদের ওপর বিশ্বাস রাখি এবং আমাদের বিজয়ের ওপরও।”

তবে চলমান শান্তি আলোচনা ও তীব্র লড়াইয়ের বাস্তবতায় যুদ্ধের ফলাফল এখনো অনিশ্চিত বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।

অন্যদিকে নববর্ষের বার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, কিয়েভ শান্তি চায়, কিন্তু দুর্বল কোনো চুক্তিতে সই করবে না। তাঁর ভাষায়, “আমরা যুদ্ধের অবসান চাই, কিন্তু ইউক্রেনের অবসান নয়। আমরা ক্লান্ত—হ্যাঁ। কিন্তু আত্মসমর্পণের জন্য প্রস্তুত—একদমই না।”

জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি আলোচনার প্রায় ৯০ শতাংশ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। তবে বাকি ১০ শতাংশই নির্ধারণ করবে ইউক্রেন ও ইউরোপের ভবিষ্যৎ।

এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় নোভগোরোদে প্রেসিডেন্ট পুতিনের একটি আবাস লক্ষ্য করে চালানো ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৯১টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। হামলায় কেউ আহত হয়নি এবং আবাসটিও অক্ষত রয়েছে।

ইউক্রেন এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘ভুয়া প্রচেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছে। কিয়েভের দাবি, শান্তি আলোচনা ব্যাহত করতেই মস্কো এমন বক্তব্য দিচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাসও রাশিয়ার অভিযোগকে “অমূলক” বলে মন্তব্য করেছেন।

এর মধ্যেই ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ওডেসায় রুশ ড্রোন হামলায় শিশুদেরসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। হামলায় বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ কোম্পানি ডিটিইকে জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো মেরামতে সময় লাগবে।

একই সঙ্গে রাশিয়ার সামরিক নেতৃত্ব জানিয়েছে, সুমি ও খারকিভ অঞ্চলে তাদের বাহিনী অগ্রসর হচ্ছে। মস্কোর দাবি, সীমান্তের কাছে একটি তথাকথিত ‘বাফার জোন’ সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই এই অভিযান। তবে ইউক্রেন এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করে বলছে, এটি নতুন করে ভূখণ্ড দখলের অজুহাত মাত্র।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন