- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
রাশিয়া ও ইউক্রেন নতুন এক দফা শান্তি আলোচনায় বসতে যাচ্ছে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে, আগামী বুধবার। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সোমবার রাতে তার দৈনিক ভাষণে এই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আজ আমি (ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান) রুস্তেম উমেরভের সঙ্গে বন্দি বিনিময় এবং রুশ পক্ষের সঙ্গে তুরস্কে অনুষ্ঠেয় বৈঠক বিষয়ে আলোচনা করেছি। উমেরভ জানিয়েছেন, বৈঠকটি বুধবার অনুষ্ঠিত হবে।”
এই শান্তি আলোচনার প্রস্তাব জেলেনস্কি দিয়েছিলেন গত সপ্তাহান্তে, ঠিক সেই সময় যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন—মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে আগামী ৫০ দিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি না হলে রাশিয়ার ওপর “গুরুতর নিষেধাজ্ঞা” আরোপ করা হবে।
মঙ্গলবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, “আমরা এই আলোচনা থেকে অলৌকিক কোনো অগ্রগতি আশা করছি না।”
তিনি আরও জানান, “আমরা আমাদের স্বার্থ রক্ষা করব, আমাদের লক্ষ্য পূরণ করব, যা যুদ্ধের শুরু থেকেই নির্ধারিত ছিল।”
এর আগে ইস্তাম্বুলে রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে দু’দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। এখনো দুই দেশের অবস্থান একে অপরের সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে।
এবারের আলোচনায় বন্দি বিনিময় এবং জেলেনস্কি ও পুতিনের মধ্যে একটি সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা আলোচনায় আসতে পারে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তুর্কি সরকারের এক মুখপাত্র এএফপিকে জানিয়েছেন, আগের মে ও জুন মাসে যে স্থানে আলোচনা হয়েছিল, এবারও সেই একই স্থানে বৈঠক হবে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা RIA জানিয়েছে, আলোচনা দুই দিনব্যাপী হবে—বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার।
রাশিয়ার সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনজুড়ে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। মঙ্গলবার ভোররাতে পূর্ব ইউক্রেনের ক্রামাতোরস্ক শহরে একটি আবাসিক ভবনে রুশ গ্লাইড বোমা আঘাত হানলে এক শিশুর মৃত্যু হয়।
রাজধানী কিয়েভের ছয়টি এলাকায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত হামলা চালানো হয়।
ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলের পক্রোভস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার ৫০টির বেশি হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। রুশ বাহিনীর বিশেষ অভিযান চালানো দলগুলো ইতিমধ্যেই শহরে প্রবেশের চেষ্টা করেছে বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনীয় সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কি।
ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে ইউক্রেনকে নতুন অস্ত্র সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, বিশেষ করে রাশিয়ার হামলা বাড়ার পর।
বহু ব্যর্থতার পরও ইস্তাম্বুলের আসন্ন আলোচনাকে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর আরেকটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের অবস্থান এখনও এতটাই দূরবর্তী যে কোনো তাৎপর্যপূর্ণ ফলাফল পাওয়া এখনো অনিশ্চিত।