- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
পশ্চিম তীরের দখলকৃত ভূখণ্ডে ১৯টি নতুন ইসরায়েলি বসতি অনুমোদনের ঘটনায় তীব্র সমালোচনা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, কানাডা, ডেনমার্ক ও ফ্রান্সসহ মোট ১৪টি দেশ। যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো বলেছে, ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি ও মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
বেলজিয়াম, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, জাপান, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন ও যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, দখলকৃত পশ্চিম তীরে নতুন বসতি স্থাপনের অনুমোদন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এবং শান্তি প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দিচ্ছে। দেশগুলো ইসরায়েলকে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোনো ধরনের ভূখণ্ড দখল বা বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে তারা স্পষ্ট অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে ন্যায্য ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
এর জবাবে ইসরায়েল সমালোচনাকে প্রত্যাখ্যান করে এটিকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’র বলেন, বিদেশি সরকারগুলো ইসরায়েলের ভূমিতে ইহুদিদের বসবাসের অধিকার সীমিত করতে পারে না এবং এ ধরনের আহ্বান নৈতিকভাবে ভুল।
এর আগে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ঘোষণা দেন, নতুন বসতি অনুমোদনের লক্ষ্য ভবিষ্যতে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ঠেকানো। তিনি জানান, ২০২২ সালের শেষ দিকে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ৬৯টি নতুন বসতি নির্মাণ বা আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংস্থাটির মতে, এই বসতিগুলো ফিলিস্তিনিদের জন্য ধারাবাহিক ভূখণ্ড গঠনের সুযোগ সংকুচিত করছে, যা দুই রাষ্ট্র সমাধানের পথে বড় বাধা।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বসতিগুলোর একটি বড় অংশ পশ্চিম তীরের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে আগে তুলনামূলকভাবে কম বসতি কার্যক্রম ছিল। এতে ফিলিস্তিনিদের ভূমি হারানোর আশঙ্কা বাড়ছে এবং সহিংসতার ঝুঁকিও তীব্র হচ্ছে।