- ০১ এপ্রিল, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান US-Israel war on Iran পঞ্চম সপ্তাহে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে বাহরাইনেও একটি প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তরের মুখপাত্র আবদুল্লাহ আল-রাজহি জানান, ইরান ও তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ড্রোন হামলায় বিমানবন্দরের জ্বালানি সংরক্ষণাগারে আঘাত লাগে। এতে বড় ধরনের আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে জরুরি সেবা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদিকে, Bahrain-এর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানি হামলার ফলে একটি কোম্পানির স্থাপনায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত আগুন নেভাতে কাজ করছে, যদিও ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে Qatar-এর রাজধানী দোহার অদূরে একটি তেলবাহী জাহাজে অজ্ঞাত অস্ত্রের আঘাত লাগে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, জাহাজটির পানির নিচের অংশে ক্ষতি হয়েছে, তবে নাবিকরা সবাই নিরাপদ রয়েছেন।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইরান থেকে ছোড়া তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে দুটি প্রতিহত করা হয় এবং একটি জাহাজে আঘাত হানে। পরে জাহাজে থাকা ২১ জন ক্রুকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
United Arab Emirates-এর ফুজাইরাহ অঞ্চলে ড্রোন প্রতিহত করার সময় বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষ একটি খামারে পড়ে এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা।
Saudi Arabia জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতের ফলে আরব বিশ্বের জিডিপি ৩.৭ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে, যা প্রায় ১২০ থেকে ১৯৪ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির সমান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump জানিয়েছেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যুদ্ধ কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা নেই।
অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে তারা যুদ্ধ চায় না, তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনাকে ‘অযৌক্তিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। পাশাপাশি দেশটি যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।
সব মিলিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।