- ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
পরমাণু ইস্যুতে দ্বিতীয় দফা আলোচনার পর ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ আরও বেড়েছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বৈঠকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হলেও উভয় পক্ষ আলোচনা অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। একই সময়ে ইরান ও রাশিয়া ওমান সাগরে যৌথ নৌ-মহড়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে, যা অঞ্চলটিতে একতরফা পদক্ষেপ প্রতিরোধের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি Karoline Leavitt বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের উচিত একটি সমঝোতায় পৌঁছানো। তার ভাষ্য, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে এখনও বড় ব্যবধান রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, তেহরান সমঝোতায় না এলে সামরিক বিকল্প বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। ইতোমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে বলে জানা গেছে।
এর আগে ওমানে প্রথম দফা পরোক্ষ আলোচনার পর জেনেভায় দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi জানিয়েছেন, সম্ভাব্য চুক্তির জন্য কিছু “নির্দেশক নীতি” নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন দাবি করছে, তাদের নির্ধারিত সীমারেখা এখনো পুরোপুরি মেনে নেয়নি তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, ইরান নিজ ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করুক এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হোক। ইরান বলছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে সীমিত আলোচনায় তারা রাজি; তবে শূন্য সমৃদ্ধকরণ বা ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে আলোচনার প্রশ্নে অনড় অবস্থান বজায় রেখেছে।
উত্তেজনার মধ্যেই ইরান ও রাশিয়া ওমান সাগরে যৌথ নৌ-মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের নৌবাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, এ মহড়ার লক্ষ্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার ও সামুদ্রিক বাণিজ্য রুট সুরক্ষায় সমন্বয় বাড়ানো। একই সঙ্গে যেকোনো একতরফা সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বার্তা দেওয়াও এর উদ্দেশ্য।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী Sergey Lavrov সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা হলে এর গুরুতর পরিণতি হতে পারে। তিনি সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেন।
এদিকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও সামরিক প্রস্তুতি ও পাল্টা হুঁশিয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনা চালু থাকলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস ও কঠোর অবস্থানের কারণে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করবে আগামী কয়েক সপ্তাহের কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের ওপর।