- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা–ফ্রান্স বিশ্বকাপ ফাইনাল এবং লিওনেল মেসির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি ওঠার ঐতিহাসিক মুহূর্তের তিন বছর পূর্ণ হলো বৃহস্পতিবার। ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বরের সেই রাত ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে নাটক, আবেগ আর অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের অনন্য উদাহরণ হিসেবে।
ফুটবলপ্রেমীদের মতে, এটি ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফাইনাল। দীর্ঘ ৩৬ বছর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সেদিন তৃতীয়বারের মতো বিশ্বসেরার মুকুট পরেছিল আর্জেন্টিনা। ডিয়েগো ম্যারাডোনার ১৯৮৬–এর পর লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আবারও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে উঠে আসে আলবিসেলেস্তেরা।
তবে এই শিরোপা জয়ের পথ মোটেও সহজ ছিল না। বিশ্বকাপের শুরুতেই সৌদি আরবের বিপক্ষে হারের ধাক্কা আর্জেন্টিনাকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি করে। কিন্তু সেই পরাজয়ই যেন দলটিকে নতুন করে গড়ে তোলে। গ্রুপ পর্বে মেক্সিকো ও পোল্যান্ডকে হারিয়ে নকআউটে উঠে আসে স্কালোনির দল। এরপর অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস এবং সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে পরাস্ত করে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে তারা।
লুসাইলের ফাইনালে প্রথমার্ধেই মেসি ও আনহেল দি মারিয়ার গোলে ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। মনে হচ্ছিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি তাদের হাতেই। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কিলিয়ান এমবাপের দুর্দান্ত জোড়া গোল ম্যাচে ফেরায় ফ্রান্সকে। অতিরিক্ত সময়েও দুই দল একটি করে গোল করলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩–৩।
ম্যাচের সবচেয়ে স্মরণীয় দৃশ্যগুলোর একটি আসে অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ প্রান্তে। ফ্রান্সের কোলো মুয়ানির নেওয়া নিশ্চিত গোলের শট অসাধারণ প্রতিক্রিয়ায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। সেই সেভ আর্জেন্টিনাকে টিকিয়ে রাখে শিরোপার লড়াইয়ে।
শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে মার্তিনেজের দৃঢ়তা এবং গঞ্জালো মন্তিয়েলের সফল শটে জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার। ২০১৪ বিশ্বকাপ ও আগের কোপা আমেরিকার ফাইনালগুলোতে পাওয়া হতাশা সেদিন আনন্দের উল্লাসে মিলিয়ে যায়।
এই তিন বছরে আর্জেন্টাইন ফুটবল নতুন এক পরিচয় পেয়েছে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে তারা। সামনে ২০২৬ বিশ্বকাপকে লক্ষ্য করে মেসি ও তার সতীর্থরা আবারও প্রস্তুত হচ্ছে নতুন চ্যালেঞ্জের জন্য।