- ১১ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক | খুলনা:
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাতের পর প্রথমবারের মতো সাধারণ নির্বাচন শুরু হয়েছে মিয়ানমারে। রোববার সকাল থেকে দেশটির সীমিত কিছু এলাকায় ভোটগ্রহণ শুরু হলেও চলমান গৃহযুদ্ধ ও কঠোর নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এই নির্বাচন ঘিরে দেশ–বিদেশে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ভোটগ্রহণ হচ্ছে মিয়ানমারের মোট ৩৩০টি টাউনশিপের মাত্র এক–তৃতীয়াংশ এলাকায়। তীব্র সংঘাত ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ৬৫টি টাউনশিপে পুরোপুরি ভোট বাতিল করা হয়েছে। প্রাথমিক ধাপ শেষে আগামী ১১ জানুয়ারি ও ২৫ জানুয়ারি আরও দুই দফায় ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে।
ইয়াঙ্গুন থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক জানান, অন্তত ২০ শতাংশ ভোটার কার্যত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। শহরাঞ্চলে কিছু কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি দেখা গেলেও তরুণ ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। ব্যালটে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সামরিক সমর্থিত দলগুলোর নাম থাকায় ভোটের বিকল্প সীমিত বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেছে জাতিসংঘ, একাধিক পশ্চিমা দেশ ও মানবাধিকার সংস্থা। সামরিক সরকারের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চি এখনও আটক রয়েছেন এবং তাঁর দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বিলুপ্ত করা হয়েছে।
সামরিক সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) এই নির্বাচনে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজধানী নেপিদোতে ভোটগ্রহণ শুরুর পরপরই সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং নিজে ভোট দেন এবং নির্বাচনকে ‘অবাধ ও সুষ্ঠু’ বলে দাবি করেন।
সরকারি দৈনিক গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধ্যায়ের সূচনার কথা বললেও জাতিসংঘের বিশেষ দূত টম অ্যান্ড্রুজ এই ভোটকে ‘বন্দুকের মুখে সাজানো নাটক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, এই প্রক্রিয়া মিয়ানমারের সংকট সমাধানের পথ নয়; বরং দমন–পীড়ন ও বিভাজন আরও বাড়াবে।
২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৩৫ লাখের বেশি মানুষ এবং প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। রাজনৈতিক মামলায় আটক রয়েছেন অন্তত ২২ হাজার মানুষ।
ইয়াঙ্গুনসহ বিভিন্ন শহরে ভোটকেন্দ্র ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার করা হলেও এতে নোট বাতিল বা লিখিত ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই, যা নিয়েও সমালোচনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাতের মধ্যে সামরিক সরকারের এই নির্বাচন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে না বললেই চলে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক রিচার্ড হর্সির ভাষায়, নির্বাচনের ফল প্রায় নিশ্চিত হলেও এটি মিয়ানমারের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে কোনো ভূমিকা রাখবে না; বরং সংঘাত ও অস্থিরতা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।